শান্তি প্রিয় রায়চৌধুরী
মুর্শিদাবাদ থেকে ফিরে ভাগিরথী নদীর তীরে এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে মুর্শিদাবাদের জীবন্ত ঐতিহ্য নিজামত ইমামবাড়া। যেটি বিখ্যাত হাজারদুয়ারি প্রাসাদের ঠিক বিপরীতে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়া মুসলিম সমাবেশ কেন্দ্র। এটি ভারতের বৃহত্তম ইমামবাড়া এবং বিশ্বের বৃহত্তম ইমামবাড়া হিসেবেও পরিচিত।
১৭৪০ সালে নবাব সিরাজ উদ-দৌলা কর্তৃক নির্মিত। মূল ইমামবাড়াটি ১৮৪২ এবং ১৮৪৬ সালে আগুনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর, বর্তমান কাঠামোটি ১৮৪৭ সালে নবাব নাজিম মনসুর আলী খান নির্মাণ করেন। পুরানো ইমামবাড়াটি কাঠের তৈরি ছিল বলে ধ্বংসের অন্যতম কারণ ছিল। বর্তমান ইমামবাড়াটির নির্মাণকাজ মাত্র এগারো মাসের মধ্যে ছয় লক্ষ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।
নিজামত ইমামবাড়া
নিজামত ইমামবাড়া কেন্দ্রটি শিয়া শোকসন্তপ্তদের জন্য একটি কেন্দ্র।বিশেষ করে পবিত্র মহরম মাসে খোলা থাকে। মহরমের সময় এটি মুর্শিদাবাদের স্পন্দনে পরিণত হয়। চোখধাঁধানো বেলজিয়ান কাঁচের ঝাড়বাতি এবং ঐতিহাসিক পতাকার মাঝে শোকানুষ্ঠানের জন্য এখানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন।
এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সৌধ হিসেবে আরচাইয়োলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া দ্বারা সুরক্ষিত, তাই পর্যটকদের সাধারণত বাইরে থেকে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়।
নিজামত ইমামবাড়ার মদিনা
মসজিদটি ইমামবাড়ার কেন্দ্রীয় অংশের কাছে অবস্থিত এবং এটি একটি ছোট, পবিত্র স্থাপনা। যেটি অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এরফলে সেই পুরানো কাঠামোর একটি প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। মদিনা মসজিদটি সুন্দর কারুকার্যময় এবং এর দেওয়ালে কুরআন থেকে উদ্ধৃতি খোদাই করা রয়েছে।
ইমামবাড়ার বিশেষত্ব হল এখানকার ভূমির প্রতিটি কণাই ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। কারণ মক্কা ও কারবালার মতো পবিত্র শহরগুলো থেকে আনা মাটি ইমামবাড়ার ভিত্তির সাথে মেশানো হয়েছিল। তাই যাঁরা হজে যেতে পারেন না, তাঁরা এখানে তাঁদের ইবাদত পালন করেন। তাই এই স্থাপত্যটি বাংলার নবাবী যুগের সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও স্থাপত্য ইতিহাসের এক শক্তিশালী প্রতীক।
তবে প্রাসাদ এবং ইমামবাড়ার মধ্যবর্তী প্রাঙ্গণে অবস্থিত ষোড়শ শতাব্দীর বিশাল কামান বাচ্ছাবলী তোপটি দেখতে ভুলবেন না। কিংবদন্তি অনুসারে, একসময় এর বজ্রের মতো প্রচণ্ড শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশেপাশের গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাতও ঘটতো।
কিভাবে পৌঁছাবেন
মুর্শিদাবাদ রেলওয়ে স্টেশনটি হাওড়া, মুম্বাই, চেন্নাই, আহমেদাবাদ এবং অন্যান্য ভারতীয় শহরগুলির সাথে ট্রেন দ্বারা সংযুক্ত। স্টেশন থেকে ট্যাক্সি পরিষেবা পাওয়া যায়।
মুশিদাবাদ সড়কপথে ভালভাবে সংযুক্ত। কলকাতা, বর্ধমান, রামপুরহাট, সিউড়ি, বোলপুর, মালদা, কৃষ্ণনগর ও দুর্গাপুর থেকে নিয়মিত বাস চলাচল করে মুর্শিদাবাদে। উপরোক্ত স্থানগুলি থেকে মুর্শিদাবাদে পৌঁছানোর জন্য একজন ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন।