‘মোস্তারি বানু বনাম নির্বাচন কমিশন’, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সামনে এল এক সাধারণ নারীর অসাধারণ লড়াই
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
মুর্শিদাবাদের এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নিজের অধিকার আদায়ের লড়াই, এই পথচলাই আজ আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে মোস্তারি বানুকে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতিতে তিনিই প্রথম আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন এবং সেই মামলা গড়ায় Supreme Court of India পর্যন্ত।
সাম্প্রতিক রায়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ভোটের ঠিক আগে পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থাকলে তারা ভোট দিতে পারবেন। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে দেওয়া এই নির্দেশ কার্যত বহু মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করেছে। আর এই আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নাম, মোস্তারি বানু।
নিজের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মোস্তারি জানিয়েছেন, এই মামলা শুধু ব্যক্তিগত ছিল না, বরং বহু সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তিনি এগিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি পর্বে তিনি নিজে দিল্লিতে উপস্থিত থেকেছেন এবং প্রতিটি ধাপে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর কথায়, আদালতের নির্দেশে প্রমাণিত হয়েছে যে সাধারণ মানুষও চাইলে সাংবিধানিক পথে নিজেদের অধিকার আদায় করতে পারেন।
এই লড়াইয়ের পেছনে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমর্থন ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে Communist Party of India (Marxist)-এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই রায় যে একজন সাধারণ নাগরিকের উদ্যোগেই সামনে এসেছে, সেটাই এখন বড় হয়ে উঠছে।
মোস্তারি বানুর এই আইনি লড়াই একদিকে যেমন ভোটাধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, তেমনি অন্যদিকে দেখিয়েছে, গণতন্ত্রে একজন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরও দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছে যেতে পারে এবং সেখান থেকেই বদলে যেতে পারে বহু মানুষের ভবিষ্যৎ।