বিশ্ব কুস্তিতে ইতিহাস, প্রথম ভারতীয় মহিলা সোনাজয়ী মণীষা ভানওয়ালা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
বিশ্ব কুস্তিতে ইতিহাস, প্রথম ভারতীয় মহিলা সোনাজয়ী মণীষা ভানওয়ালা
বিশ্ব কুস্তিতে ইতিহাস, প্রথম ভারতীয় মহিলা সোনাজয়ী মণীষা ভানওয়ালা
 
নয়াদিল্লি

হার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল একসময়। প্রতিপক্ষের কাছে ০-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ তিন মিনিটে বদলে গেল গোটা ছবিটাই। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে আমেরিকার অ্যাবিগেল নেটেকে ৮-৬ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন ভারতের মণীষা ভানওয়ালা। শুক্রবারের এই জয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় মহিলা কুস্তির ইতিহাসেও এক নতুন অধ্যায়। বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা কুস্তিগির হলেন মণীষা।

মহিলাদের ৫৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে শুরুটা একেবারেই অনুকূলে ছিল না মণীষার। প্রথম রাউন্ডের শেষে ১-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। পরে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ০-৬। কিন্তু হার মানতে রাজি ছিলেন না ভারতীয় কুস্তিগির। শেষ তিন মিনিটে দুরন্ত আক্রমণে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮-৬ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।
 
বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয়দের পদক জয়ের নজির থাকলেও মহিলাদের বিভাগে সোনার অপেক্ষা এত দিন পূরণ হয়নি। ২০২১ সালে অংশু মালিক ফাইনালে উঠেও রুপো পেয়েছিলেন। এবারও ফাইনালে উঠে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে নীলম সিরোহি ও কাজল ধোচাককে। ৫০ কেজি বিভাগে নীলম এবং ৬৮ কেজি বিভাগে কাজল ফাইনালে হারেন। তবে মণীষার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত এল ঐতিহাসিক সাফল্য। পুরুষদের বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের একমাত্র সোনাজয়ী কুস্তিগির সুশীল কুমার।
 
সদ্য এশিয়ান গেমসে পদক না পাওয়ার আক্ষেপও এই সাফল্যের মাধ্যমে অনেকটাই মুছে দিলেন মণীষা। তবে সোনা জয়ের পর তাঁর আবেগঘন একটি পদক্ষেপ নজর কেড়েছে সকলের। পদক মঞ্চে বিশেষ একটি টি-শার্ট পরে হাজির হন তিনি। সেই টি-শার্টে ছিল তাঁর বাবা-মায়ের ছবি। নিজের সাফল্যের নেপথ্যে বাবা-মায়ের ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ।
 
মণীষার কুস্তিগির হয়ে ওঠার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর বাবা সুরেশ ভানওয়ালার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেয়েকে অনেকটা জোর করেই কুস্তির আখড়ায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যরা কবাডি খেলতেন। মণীষারও ইচ্ছা ছিল কবাডি খেলার। কিন্তু মেয়ের মধ্যে কুস্তির সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন বাবা। তাঁর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় মণীষার জীবনের পথ।
 
তবে মেয়ের সাফল্য দেখার সুযোগ পাননি সুরেশ। ২০২২ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে মণীষা যেদিন বিমানে উঠেছিলেন, সেদিনই প্রয়াত হন তাঁর বাবা। বাবার সেই স্বপ্ন ও আত্মত্যাগকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে গিয়েছেন মণীষা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা জিতে যেন সেই মানুষটিকেই উৎসর্গ করলেন তিনি। ০-৬ থেকে ৮-৬, এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বাবার স্বপ্ন এবং মেয়ের অদম্য লড়াই।


শেহতীয়া খবৰ