'এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি'—জাপান ওপেন জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন পিভি সিন্ধু

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
'এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি'—জাপান ওপেন জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন পিভি সিন্ধু
'এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি'—জাপান ওপেন জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন পিভি সিন্ধু
 
মুম্বই: 

দুইবারের অলিম্পিক পদকজয়ী ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু বলেছেন, তিনি কখনও নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি। তবে জাপান ওপেন সুপার ৭৫০-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, "এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি।"

জাপান ওপেনে শিরোপা জয়ের পর পিভি সিন্ধুকে শুভেচ্ছা জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (BAI)-এর সভাপতি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, "জাপান ওপেনের ফাইনালে আকানে ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে শিরোপা জেতার জন্য আমাদের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধুকে আন্তরিক অভিনন্দন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সিন্ধুর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। তাঁর প্রতিটি সার্ভ, শট ও স্ম্যাশ ছিল নিখুঁত দক্ষতার পরিচয়।"

তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য দেশের কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমীর কাছে গর্বের বিষয় এবং আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।উল্লেখ্য, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বর্তমানে ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (BAI)-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
 
ফাইনালে জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়ে সিন্ধু গত দুই বছরের মধ্যে প্রথম বড় খেতাব জেতেন। একইসঙ্গে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে জাপান ওপেনের শিরোপাও জয় করেন।ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিন্ধু বলেন,"বলতেই হবে, এই জয়ের জন্য আমি অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এই সাফল্য আমার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, আমি আরও অনেক দূর যেতে পারব। নিজের ওপর বিশ্বাস আরও বেড়েছে যে, হ্যাঁ, আমি পারি এবং এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ঠিক আগে এই জয় আমাকে খুবই আনন্দ দিয়েছে।"

সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,"অনেক রকম কথা শোনা যায়। কিন্তু সেসবের জবাব দেওয়ার চেয়ে আমি নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে উত্তর দিতে চাই। আমি সবসময় নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। অনেক দিন পর এই শিরোপা জেতা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।"গত প্রায় দুই বছর তাঁর জন্য খুব কঠিন ছিল বলে স্বীকার করেছেন সিন্ধু। একাধিক ছোটখাটো চোট ও বড় আঘাতের কারণে ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছে।

তিনি বলেন,"এটা খুব কঠিন একটা সময় ছিল। চোট একজন ক্রীড়াবিদের জীবনেরই অংশ। তাই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার কিছু ছোটখাটো সমস্যা ছিল, তারপর ফিরে এলাম, আবার চোট পেলাম। সেই অবস্থায় আগের ছন্দে ফেরা মোটেই সহজ ছিল না।"

তিনি আরও বলেন,"আমার কোচ এবং পুরো সাপোর্ট স্টাফ ভীষণ পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের এই জয় উপহার দিতে পেরে আমি খুব খুশি।"ফাইনালে আকানে ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে দীর্ঘ র‍্যালির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান সিন্ধু।"ওর বিরুদ্ধে খেলতে হলে দীর্ঘ র‍্যালির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। কোর্টে অনেকক্ষণ লড়াই করতে হয়। প্রতিটি পয়েন্টই খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য সুযোগ দিলেই ম্যাচের ছন্দ বদলে যেতে পারে।"

ইন্দোনেশিয়ার কোচ ইরওয়ানসিয়াহ আদি প্রতামার প্রশংসা করে সিন্ধু বলেন,"তিনি সবসময়ই নিবেদিত ছিলেন এবং আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে—সব বিষয়ে তিনি স্পষ্ট দিশা দিয়েছেন। আমরা দু'জনই বিশ্বাস রেখেছিলাম যে পরিশ্রমের ফল একদিন আসবেই। অনুশীলনে সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছিল, তাই ধৈর্য ধরে এগিয়ে গিয়েছি।"

সিন্ধু জানান, শক্তি, শারীরিক সক্ষমতা, গতি ও ক্ষিপ্রতা বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে কাজ করেছেন তিনি।"আমার কোচিং দল শক্তি, ফিটনেস, গতি ও অ্যাজিলিটি উন্নত করতে অনেক সাহায্য করেছে। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, সেটা বিশ্লেষণ করে প্রতিটি বিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে। এমনকি রিকভারি প্রক্রিয়াও নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়েছে। পুরো সাপোর্ট সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করায় এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।"

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ব্যাডমিন্টনে ২১ পয়েন্টের পরিবর্তে ১৫ পয়েন্টের নতুন নিয়ম চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে সিন্ধুর মত, নতুন ব্যবস্থায় ম্যাচ আরও দ্রুতগতির ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

তিনি বলেন,"আমার মনে হয় ম্যাচের তীব্রতা অনেক বেড়ে যাবে। ২১ পয়েন্টের খেলায় ৫-৬ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়লেও ফিরে আসার সুযোগ থাকে। কিন্তু ১৫ পয়েন্টের খেলায় সেই সুযোগ অনেক কম। প্রথম পয়েন্ট থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। সাত পয়েন্টের মধ্যেই অর্ধেক খেলা শেষ হয়ে যাবে। তাই শুরু থেকেই প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে হবে। এটা যেমন চ্যালেঞ্জিং হবে, তেমনই রোমাঞ্চকরও হবে।"


শেহতীয়া খবৰ