গোয়া ঃ
অসাধ্য সাধন করে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করলেন অসমের কৃতি সাঁতারু এলভিস আলি হাজরিকা। দীর্ঘ ৩৫০ কিলোমিটার সমুদ্রপথে রিলে সাঁতার কেটে তিনি সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছেছেন, যা সময় লেগেছে প্রায় ৮০ ঘণ্টা, টানা ৪ দিনে। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি প্রথম অসমীয়া হিসেবে এমন দুঃসাহসিক সমুদ্র সাঁতার সম্পূর্ণ করলেন।
এলভিস জানান, তিনি ৬ তারিখ সকালে সাঁতার শুরু করেন এবং ৯ তারিখ দুপুরে শেষ করেন। চার দিনের এই যাত্রা ছিল শারীরিক ও মানসিক—দু’দিক থেকেই চরম পরীক্ষার। তাঁর ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন—ভয়, ক্লান্তি, উত্তেজনা আর আত্মতৃপ্তি সবকিছু মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
মাঝসমুদ্রে দিনের পর দিন সাঁতার কাটা মোটেই সহজ ছিল না। পাশে শুধুমাত্র একটি সহায়ক নৌকা, চারদিকে অসীম সমুদ্র—এই পরিস্থিতিতে একটানা সাঁতার চালিয়ে যাওয়া ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। এই চার দিনে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি, খাওয়াদাওয়াও ছিল সীমিত। এর মধ্যেই অসংখ্য জেলিফিশের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে, যা সাঁতারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন সমুদ্রস্রোত হঠাৎ তীব্র হয়ে যায়। জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের সময় সাঁতার চালিয়ে যাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। তবুও অদম্য মানসিক শক্তি ও দৃঢ় সংকল্পের জোরে তিনি হার মানেননি।
ভারতে এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চার সমুদ্র সাঁতার অত্যন্ত বিরল। সেই কারণেই নিজের এই সাফল্য নিয়ে গর্বিত ও আনন্দিত এলভিস আলি হাজরিকা। তিনি বলেন, পুরো সাঁতারটি ছিল ভীষণ ক্লান্তিকর, কিন্তু সফলভাবে শেষ করতে পারা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।
এলভিসের এই কীর্তি শুধু অসম নয়, গোটা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—পরিশ্রম, সাহস আর অটুট বিশ্বাস থাকলে সমুদ্রের মতো বিশাল বাধাও জয় করা সম্ভব।