নয়াদিল্লি
টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বর্জনের পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটকে একধরনের অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। রাজনীতি, ইতিহাস ও পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বাধিক রাজস্ব আনে, এ কথা সর্বজনবিদিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একটি ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ)। সম্প্রচার অধিকার, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ উঠে আসে।
শুধুমাত্র ভারত বা পাকিস্তানই নয়, এই ম্যাচ থেকে আয় করা অর্থের বড় অংশ পায় আইসিসি (ICC)। যেহেতু দুই দল কেবলমাত্র আইসিসি এবং এশিয়ান টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়, তাই এই ম্যাচের আর্থিক লাভ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল ভরসা। পরবর্তীতে সেই রাজস্ব আইসিসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
এদিকে পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই অভিযোগ, টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই নাকি পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বর্জন করেছে।
বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচ ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে চাইলেও আইসিসি তাতে সাড়া দেয়নি এবং পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে জায়গা দেওয়া হয়।
প্রথম আলো-কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, "যদি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্বই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরাও আমাদের হিস্যা কম পাব। এমন ক্ষতি আমরা কখনোই চাইনি।"
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পিছনে উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট। তাদের মতে, পাকিস্তান ভারতীয় ক্রিকেটকে একটি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে এবং ভারতের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্তটিকে তারা ‘যুক্তিযুক্ত’ বলেও অভিহিত করেন।
বিসিবির আরেক কর্মকর্তা আইসিসির সম্ভাব্য রাজস্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আইসিসির কেন্দ্রীয় তহবিলে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কেনিয়া বা উগান্ডার মতো দেশ ১-২ লাখ ডলার পেলেই খুশি, কিন্তু বাংলাদেশর মতো দেশ কীভাবে টিকে থাকবে, যদি আইসিসির তহবিল কমে যায়?"
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে এসেছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটের রাজস্ব কাঠামো কীভাবে ধরে রাখা হবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।