ত্রিপুরা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সাফল্য মুসলিম ছেলে তারিব আলীর , গর্বিত রাজ্যবাসী
Story by Nurul Haque | Posted by Aparna Das • 7 h ago
তারিব আলী
নূরুল হক / আগরতলা
ত্রিপুরার মাটিতে জন্ম নেওয়া এক সাধারণ যুবকের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি আজ রাজ্যবাসীর গর্বের কারণ হয়ে উঠেছে। সীমিত সুযোগ ও নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন কৈলাশহরের তারিব আলী।
অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি আজ ইংল্যান্ডের একটি স্বনামধন্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, যা ত্রিপুরার যুব সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।
তারিব আলী
ত্রিপুরা থেকে সুদূর ইংল্যান্ডে গিয়ে সাফল্যের ইতিহাস রচনা করলো ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ প্যারামেডিকেল সায়েন্সের ছাত্র তারিব আলী। ত্রিপুরার কৈলাশহর মহকুমার টিলা বাজার এলাকার কালেরকান্দি গ্রামের ছেলে তরিব আলী বর্তমানে ইংল্যান্ডের স্যালিসবুরি এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে একজন অ্যানাস্থেটিক প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে চলছেন।
কৈলাশহর কালেরকান্দি গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক ইয়াজিদ আলীর ছেলে তারিব আলী। উচ্চ মাধ্যমিকের পর ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ প্যারামেডিকেল সাইন্স তথা টিপস-এ শিক্ষা শুরু করেন তারিব। টিপস-র পড়া শেষ করে তিনি বেঙ্গালুরু মণিপাল হাসপাতাল এবং পশ্চিমবঙ্গে ক্লিনিক্যাল প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেন। কঠোর প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে তিনি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং কয়েক মাস ধারাবাহিক পরীক্ষা এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তিনি এইচসিপিসিতে নথিভুক্ত হন। তারপর ই তিনি ইংল্যান্ডের স্যালিসবুরি এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে একজন অ্যানাস্থেটিক প্র্যাকটিশনার হিসেবে কাজে যোগ দেন এবং বিগত প্রায় বছর যাবত যোগ্যতার সাথে কাজ করছেন।
নিজের সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তারিব বলেন, “ত্রিপুরা থেকে এসে যুক্তরাজ্যে কাজ করা আমার কাছে একটি স্বপ্নপূরণ। সঠিক প্রস্তুতি ও অধ্যবসায় থাকলে আমাদের রাজ্যের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।”
তিনি বলেন রোগীদের অত্যন্ত যত্ন সহকারে দায়িত্বের মাধ্যমে এনেস্থেনিয়া দেওয়ার কাজ করেন তিনি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কাজে তার দায়িত্ববোধ এবং কর্মদক্ষতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক স্তরে রাজ্যের মুসলিম ছেলের এই সাফল্য গোটা মুসলিম সমাজ সহ রাজ্যবাসী গর্বিত রয়েছেন এবং তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।