অ্যাকোরিয়ামে জ্যান্ত মানুষ! ২৪ ঘণ্টা পার করেও জলের তলায় দিব্যি রয়েছে, হাওড়ার এই ‘জলমানব’-র পাগলামি দেখলে শিউরে উঠবেন

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 3 d ago
অ্যাকোরিয়ামে জ্যান্ত মানুষ! ২৪ ঘণ্টা পার করেও জলের তলায় দিব্যি রয়েছে, হাওড়ার এই ‘জলমানব’-র পাগলামি দেখলে শিউরে উঠবেন
অ্যাকোরিয়ামে জ্যান্ত মানুষ! ২৪ ঘণ্টা পার করেও জলের তলায় দিব্যি রয়েছে, হাওড়ার এই ‘জলমানব’-র পাগলামি দেখলে শিউরে উঠবেন
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

কানায় কানায় ভর্তি করা জলের মধ্যে ‘ডুবে’ রয়েছেন এক যুবক, মুখে বাঁশের নল। ৩০ ঘণ্টার ‘জল-সমাধি’তে রয়েছেন হাওড়ার মুকেশ গুপ্তা। ছেলেকে উৎসাহ জাগাতে অ্যাকোরিয়ামের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন মা। হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে এই দৃশ্য দেখে দুপুর থেকেই থমকে যাচ্ছিল পথচলতি মানুষের ভিড়। দাঁড়িয়ে দিয়ে সবার চোখ আটকে যাচ্ছে প্রকাণ্ড এক কাচের বাক্সে।
 
দেখা গেল, কানায় কানায় জল ভর্তি সেই কাঁচের অ্যাকোরিয়ামের ভেতর রয়েছে জ্যান্ত মানুষ। কোনো ম্যাজিক বা অলৌকিক কিছু নয়, নয় কোনো ইলিউশন। তরতাজা  রক্তমাংসের এক যুবক টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জলের তলায় ডুব দিয়ে বসে আছেন। মুখে গোঁজা রয়েছে শুধু একটা বাঁশের নল। জানা গেল, ওই বাঁশের নলই তাঁর অক্সিজেনের একমাত্র ভরসা। এই যুবকের নাম মুকেশ গুপ্তা। তাঁর লক্ষ্য, একটানা ৩০ ঘণ্টা জলের তলায় কাটিয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলা।
 
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমতে শুরু করে দেয়। কেউ কেউ তো ছবি তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তবে সময় যত গড়িচ্ছে, ততই বেড়েছে উদ্বেগের মাত্রা। ঘন্টার পর ঘণ্টা একটানা জলের তলায় থাকার কারণে লক্ষ্য করা গিয়েছে মুকেশের শরীরের বিভিন্ন অংশ সাদাভাব চলে এসেছে। কেউ কেউ বললেন, এ লক্ষণ পেশিতে টান ধরার চরম ঝুঁকি। কিন্তু কাঁচের অ্যাকোরিয়ামের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর বুক দুরুদুরু করলেও, দেখা গেল  জলের তলায় থাকা মুকেশের চোখে-মুখে কোনো ক্লান্তির চিহ্ন নেই।
 
একটা বিষয় লক্ষ্য করা গেল, জলের মধ্যে রয়েছে ছেলে, আর পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর মা। আসলে, প্রতি মুহূর্তে কাচের দেওয়ালের ওপার থেকে ছেলেকে যেন জোগাচ্ছেন সাহস আর মানসিক শক্তি। মুকেশের মা জানান, ছেলের এই জলের প্রতি ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। এর আগেও হাত বেঁধে গঙ্গা পার হয়েছিল সে।  গঙ্গার তলদেশে একটানা ১২ ঘণ্টা বসে থাকা কিংবা গঙ্গায় ১৫ হাজার ডুব দেওয়ার মতো একাধিক অবিশ্বাস্য রেকর্ড রয়েছে জাতীয় স্তরের এই সাঁতারুর ঝুলিতে।
 
মুকেশের এই দুঃসাহসিক কীর্তি দেখতে দেখতেই ভিড়ের মধ্য থেকে কিছু জরুরি প্রশ্ন উঠেছিল। কেউ জানতে চাইলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করার জন্য আদৌ কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না?  তবে লোকে যাই বলুক না কেন, কোনো সমালোচনাই দমাতে পারছে না মুকেশকে। আসলে তাঁর পাখির চোখ রয়েছে এখন অনেক দূরে।
 
ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তোলা এই সাঁতারুর আসল স্বপ্ন নাকি ইংলিশ চ্যানেল পার করা। আর সেই কঠিন লড়াইয়ের পথ খুঁজতেই অ্যাকোরিয়ামের এই জল-বন্দি দশাকে বেছে নিয়েছেন তিনি। নেট দুনিয়ার দৌলতে ইতিমধ্যেই ভাইরাল মুকেশের এই রুদ্ধশ্বাস ‘স্টান্ট’।


শেহতীয়া খবৰ