বিশ্বকাপে নরওয়ের সঙ্গে উড়েছে ৩০০ কেজির মাছ, এর নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা!

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Aparna Das • 19 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
শান্তি প্রিয় রায়চৌধুরী

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর নরওয়ে এবার বিশ্বকাপে খেলতে আসছে। ১৯৯৮ সালে তারা শেষ বিশ্বকাপে খেলেছিল। মাঝে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তাদের। এবার সেই খরা কাটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের মহারণে আর্লিং হলান্ডের দল। মহা আনন্দে আছে সারা দেশ। 
 
মাঠে নামার আগে অন্য এক কারণে দেশটি শিরোনামে উঠে এসেছে। বিশ্বকাপে খেলতে তারা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে প্রায় ৩০০ কেজি মাছ এবং ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এর নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। 

এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ কী? 
 
আর্লিং হালান্ড এবং মার্টিন ওডেগার্ডের  নেতৃত্বাধীন দলের লক্ষ্য হল টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড়দের সেরা মানের পুষ্টি দেওয়া। তাই নরওয়ের বিখ্যাত শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড এবং এরিক টাফটের তত্ত্বাবধানে, খেলোয়াড়রা যেন বিদেশের মাটিতেও নিজেদের দেশের সেরা খাবারের স্বাদ পান, তা নিশ্চিত করা।
 
এর জন্য নরওয়ে দল নিজেদের সঙ্গে দুজন বিশ্বমানের শেফও নিয়ে গেছে, যারা আমেরিকায় নরওয়েজিয়ান উপকরণ দিয়ে খেলোয়াড়দের জন্য খাবার প্রস্তুত করবেন।
 
এই দুই খ্যাতনামা হলেন শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন এর আগে ২০২০ অলিম্পিকে নরওয়ে দলের রান্নাঘরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে তারা খেলোয়াড়দের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করছেন।
প্রতীকী ছবি
 
এ বিষয়ে শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড বলেছেন, "সেরা খাবার তৈরি করতে হলে প্রয়োজন সেরা নরওয়েজিয়ান উপকরণ। বিশ্বকাপে আমাদের তাই এই আয়োজন। তাই বিশ্বকাপের দেশ গুলোর বাজারের উপর নির্ভর না করে নিজেদের দেশ থেকেই আনা হয়েছে। মাছ, চিজ-সহ নানা খাদ্যসামগ্রী। বিশেষ করে লাল মাছ এবং ব্রাউন চিজকে নরওয়ের খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।"
 
অ্যারন এসপেল্যান্ড আরো বলেছেন, “ আমরা সবসময় সেরা নরওয়েজিয়ান উপকরণ ব্যবহার করতে চাই। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে দেশের সেরা খাবার পরিবেশন করতে পারা আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য খুবই জরুরি।”
 
সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, “নরওয়ে থেকে আমেরিকায় প্রায় আধ টন মাছ পাঠানো মোটেও সহজ কাজ নয়। কিন্তু ফুটবলারদের জন্য সর্বোচ্চ মানের খাবারের আয়োজন করতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।  দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আমরা ফিরছি। সুতরাং সেই প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতিতে শুধু ফুটবল নয়, সমান গুরুত্ব পাচ্ছে খাবারের টেবিলও।
 
প্রতীকী ছবি
 
বিশ্বকাপের আগে নরওয়ের এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই ফুটবল অঙ্গনে একটা আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও হালান্ড-ওডেগার্ডরা কতটা সফলভাবে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেন
 
উল্লেখ্য,১৬ জুন ইরাকের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে। গ্রুপ ‘আই’-এ নরওয়ের আর প্রতিপক্ষ হল ফ্রান্স, সেনেগাল এবং ইরাক।