শান্তি প্রিয় রায়চৌধুরী:
অবশেষে ২৫ জুলাই আব্দুল কাদিরের পেমেন্ট ক্লিয়ার করার পর মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব থেকে ট্রান্সফার ব্যান্ড উঠে গেল। অর্থাৎ মহমেডানের উপর ফিফা যে ট্রান্সফার ব্যান চাপিয়েছিল ফুটবলার আবদুল কাদিরের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ায় নির্বাসন উঠে যাচ্ছে মহমেডানের ওপর থেকে। ফলে নতুন ফুটবলার নেওয়ার ব্যাপারে আর কোন অসুবিধা রইলো না মহমেডানের। সেপ্টেম্বরে পরবর্তী ট্রান্সফার উইন্ডো খুললে নতুন ফুটবলার সই করাতে পারবে মহমেডান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ -২৫ মরসুমে মহমেডানে যোগ দিয়েছিলেন ঘানার ডিফেন্ডার আব্দুল কাদির। কিন্তু প্র্যাকটিসে চোট পেয়ে একটা ম্যাচ না খেলে তিনি ফিরে যান দেশে। এরপর মহমেডান তার পেমেন্ট করেনি। বেতন না পেয়ে ফিফার দ্বারস্থ হন কাদির। আর তাতেই ২০২৫ সালে ফিফা মহমেডানের ওপর এক বছরের ট্রান্সফার ব্যান্ড চাপিয়ে দেয়। এরমধ্যে অবশ্য মহমেডানকে একটা সুযোগ পেয়েছিল। ফিফা ৩১ এপ্রিলের মধ্যে কাদিরের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার জন্য জানিয়েছিল। কিন্তু ক্লাবের পুরনো কর্মকর্তাদের টানাপোড়েনের ফলে সেই বেতন মেটায় নি আগের কমিটি।
৯ জুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হুমায়ুন কবির ঘানার সেই খেলোয়ারটির ও ক্লাবের খেলোয়াড় ও কোচের বকেয়া পেমেন্ট মিটিয়ে দিলেন।
কাদিরের পেমেন্ট মেটানোর জন্য সচিব ওয়াসিম আক্রম কাদিরের এজেন্ট এর সঙ্গে বারবার আলোচনা করেন।তবে তিনি বকেয়া বেতনের কিছুটা ছাড় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন কাদিরের এজেন্টকে। কিন্তু কাদিরের এজেন্ট রাজি হননি। অবশেষে ২৫ জুলাই কাদিরের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দিয়েছে মহমেডান। ফিফা এর প্রাপ্তি স্বীকার করে মেল ও করেছে। সুতরাং এবার আর নতুন ফুটবলার নেওয়ার ব্যাপারে কোন সমস্যা রইলো না মহমেডানের।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওয়াসিম আকরাম বলেছেন, আজ আমরা খুব আনন্দিত। আমাদের উপর থেকে ফিফার ট্রান্সফার ব্যান উঠে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, '২০২৫ সালে আমরা ফিফার নির্বাসনের কবলে পড়েছিলাম। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই নির্বাসনের মেয়াদ ছিল। এরমধ্যে কাদিরের পেমেন্ট করা হয়নি। এর জন্য আমরা নতুন ফুটবলার সই করাতে পারিনি।'
তিনি আরো বলেন,'২০২৫ সালে কাদির অনুশীলনের চোট পেয়ে একটা ম্যাচও খেলতে পারেনি। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ওকে যে পেমেন্ট করার কথা ছিল, সেই পেমেন্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে করা হয়নি। তার জন্য আমরা ফিফা নির্বাসনের আওতায় পড়ি। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের সময় দেয়া হয়েছিল পুরো পেমেন্ট করার জন্য। কিন্তু ক্লাবের ডামাডোলের কারণে সেই পেমেন্ট হয়নি। এরপর নতুন সভাপতি হুমায়ূন বাবু আসার পর আবার নতুন করে কাদিরের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আমাদের সময় দেয়া হয়েছিল ৩০ জুলাই পেমেন্ট করার জন্য। আমরা কথাবার্তা বলে ২৫ জুলাই টাকা পয়সা কাদিরকে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের কাছে টাকা পাঠানো সমস্ত নথিপত্র আছে। ফিফা ও প্রাপ্তি স্বীকার করেছে। আশা করছি আর কোন সমস্যা থাকবে না। আর কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যান উঠে যাবে।'
তিনি বলেন,'ব্যান উঠে গেলে নতুন ফুটবলার নিতে আর কোন অসুবিধা হবে না। তবে আপাতত কোনও ফুটবলার নিতে পারবে না মহমেডান। সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো খুললে তারপর নতুন ফুটবলার সই করাতে পারবে মহমেডান। তবে নতুন ফুটবলাররা কিন্তু সেপ্টেম্বরে আগে খেলতে পারবেন না।
এদিকে দুটো ইনভেস্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন সভাপতি হুমায়ূন কবির। তিনি বলেছেন, খুব তাড়াতাড়ি ইনভেস্টারের ব্যাপারটি চূড়ান্ত হবে।
উল্লেখ, মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পুরনো ইনভেস্টরদের (বাংকারহিল ও শ্রাচী) সঙ্গে টানাপোড়েন ও আর্থিক সংকটের পর, নতুন কোনো ইনভেস্টরের নাম ক্লাব কর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে পারে নি।