বিশ্ব শান্তির জন্য আগরতলায় মৌন মিছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের
Story by Nurul Haque | Posted by Sudip sharma chowdhury • 16 d ago
বিশ্ব শান্তির জন্য আগরতলায় মৌন মিছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের
নুরুল হক ঃ আগরতলা
প্রতিবেশী বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সংখ্যালঘু চাকমা জনজাতির উপর মৌলবাদীদের নির্যাতনের মধ্যেই ত্রিপুরায় বিশ্ব শান্তির বার্তা দিয়ে মৌন মিছিল করলো বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। কোন ধরনের স্লোগান এবং দাবির পরিবর্তে নিরব পদযাত্রায় শামিল হন শতাধিক শিশু কিশোর সহ বিভিন্ন বয়সের বৌদ্ধ ভিক্ষু । মৌনতার মধ্য দিয়েই বিশ্ব শান্তির বার্তা তুলে ধরেন তারা ।
ত্যাগ এবং বৈরাগ্যের প্রতীক গেরুয়া রঙের চীবর পরিহিত অবস্থায় ভিক্ষা পাত্র নিয়ে তারা বেনুবন বুদ্ধ বিহার থেকে বের হয়ে আগরতলা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করেন এবং উজ্জয়ন্ত রাজ প্রাসাদে মিলিত হন। এই পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন আগরতলা বেনুবন বুদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ডক্টর কেমা ছেরা। উজ্জয়ন্ত রাজপ্রাসাদে তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মহারাজ প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন সহ কয়েকজন চাকমা জনজাতি প্রতিনিধি। শনিবার আগরতলা শহরে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের এই শান্তি পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাধারণের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য নিয়েছিল।
এদিন আগরতলা বেনুবন বুদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ডাক্তার কেমা ছেরার নেতৃত্বে ১০৮ জন কিশোর বৌদ্ধ ভিক্ষু এই শান্তি মৌন মিছিলে অংশ নেয়। তারা আগরতলা বুদ্ধমন্দির এলাকায় অবস্থিত বেনুবন বৌদ্ধবিহার থেকে পদযাত্রা করে আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ পর্যন্ত মিলিত হয়। এই পুরো পদযাত্রায় ছিল মৌন। বেনুবন বুদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ডক্টর কেমা ছেরা বলেন প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বুদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিতে শান্তি পদযাত্রা হয়ে থাকে।
এবার আগরতলায় এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের শ্রবণ দীক্ষা দান পর্ব শেষে মৌন পদ যাত্রা হয়েছে। এই পদযাত্রার মাধ্যমে গোটা বিশ্ববাসীর শান্তির প্রার্থনা করা হয়েছে এবং বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভিক্ষুদের এই পদযাত্রায় কোনো স্লোগান কিংবা দাবি ছিলনা। নীরবতার মধ্যে কিভাবে শান্তি স্থাপন করা যায় সেই বার্তায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
আগামী দিনে বৃহত্তর পরিসরে ত্রিপুরার সাব্রুম মনো বনকুল এলাকার ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির হলো মহামুনি প্যাগোডা থেকে আগরতলা পর্যন্ত একইভাবে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত ত্রিপুরায় সংখ্যালঘু জাতির মধ্যে ভালো সংখ্যায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা রয়েছেন। যদিও বিগত কয়েক বছরে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে সরকারি তথ্য রয়েছে।