পশ্চিমবঙ্গে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ বনাম ঐতিহ্যের মর্যাদা: শতবর্ষী মসজিদ নিয়ে ঐকমত্যের খোঁজ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
পশ্চিমবঙ্গে  বিমানবন্দর সম্প্রসারণ বনাম ঐতিহ্যের মর্যাদা: শতবর্ষী মসজিদ নিয়ে ঐকমত্যের খোঁজ
পশ্চিমবঙ্গে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ বনাম ঐতিহ্যের মর্যাদা: শতবর্ষী মসজিদ নিয়ে ঐকমত্যের খোঁজ
কলকাতা ঃ

পশ্চিমবঙ্গে বিমানবন্দরের রানওয়ের একেবারে কাছেই অবস্থিত ১৩৬ বছরের প্রাচীন গৌরীপুর জামে মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে ফের সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। সর্বসম্মতির ভিত্তিতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরে বিধায়ক, প্রশাসনিক কর্তারা এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের পর একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল মসজিদ পরিদর্শন করে। পরে বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটির তরফেও আলাদা আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কারণে এই মসজিদকে ঘিরে উদ্বেগ ছিল।

রানওয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বিমান ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বহুবার। পাশাপাশি বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজেও এর প্রভাব পড়ছে বলে দাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। সেই কারণেই মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রশাসন সতর্ক পদক্ষেপ নিতে চাইছে। বিশেষ করে ঈদের সময় এই মসজিদে বহু মানুষ নামাজ পড়তে আসেন। তাই স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগকে গুরুত্ব দিয়েই এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
 
মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কখনওই বিমানবন্দরের কাজ বা নিরাপত্তায় বাধা সৃষ্টি করা নয়। তাঁদের বক্তব্য, মসজিদের কারণে বিমানবন্দরের কোনও অসুবিধা হোক, সেটা তাঁরাও চান না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় জায়গায় নতুন মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে স্থানান্তর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় তাঁরা নেই। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে আরও একদফা আলোচনা হতে পারে।

এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ঐতিহাসিক এই মসজিদ বহু মানুষের কাছে বাঁকড়া মসজিদ নামেও পরিচিত। বহু বছর ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে এর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ১৯২৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর এবং পরে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের সময়ও মসজিদটি একই জায়গায় থেকে যায়। বিমানবন্দরের জন্য আশপাশের রাস্তার বিন্যাস বদলালেও মসজিদটি সরানো হয়নি।