দেবকিশোর চক্রবর্তী
মুম্বাইবাসী তরুণ উদ্যোক্তা, সমাজসেবী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হোসেন মনসুরি আজ কোটি মানুষের কাছে এক অনন্য মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন মানবসেবার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নিরলস দাতব্য কর্মকাণ্ড এবং মানবিক উদ্যোগের কারণে অনেকেই তাঁকে ‘মানবতার দূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের বড় একটি অংশ তিনি উৎসর্গ করেন মানুষের কল্যাণে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে হাসপাতালের বারান্দা, যেখানেই অভাব, সেখানেই যেন উপস্থিত হন হোসেন মনসুরি। গৃহহীন, ভিক্ষুক, অসুস্থ ও ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের জন্য খাদ্য, আর্থিক সহায়তা এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া তাঁর নিত্যদিনের কাজ। নিজের উপার্জনের উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি ব্যয় করেন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। ফলে তাঁর উদ্যোগ শুধু শত শত মানুষের জীবনেই স্বস্তি বয়ে আনছে না, বরং সমাজের অনেককেই মানবসেবায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করছে।
হোসেন মনসুরির সমাজসেবার কিছু উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত
তবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। হোসেন মনসুরির শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্য ও অভাবের মধ্যে। ক্ষুধা, বঞ্চনা এবং অনিশ্চয়তা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। এমনও সময় গেছে, যখন অন্যের ফেলে দেওয়া পোশাক পরে জীবনযাপন করতে হয়েছে তাঁকে। জীবনের সেই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁর হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে অসহায় মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা। নিজের কষ্টের স্মৃতিকে তিনি পরিণত করেছেন অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর প্রেরণায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর জনপ্রিয়তা ঈর্ষণীয়। ফেসবুকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি। এছাড়া ইনস্টাগ্রামে রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি অনুসারী এবং ইউটিউবে ৮৩ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তিনি নিয়মিত মানবিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে দেখা যায় ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়া, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। ফলে তাঁর কনটেন্ট শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বারবার আলোচনায় এলেও ব্যক্তিগত প্রচার থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছে মানুষের মুখের হাসিই সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। পরিচিতজনদের ভাষ্য, খ্যাতি বা প্রশংসা নয়, মানুষের উপকার করাই তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই তিনি নীরবে কাজ করে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
‘মানব সেবা, জীব সেবা’ এই দর্শনকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছেন হোসেন মনসুরি। এমন এক সময়ে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রেই আত্মপ্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, তখন তিনি এটিকে ব্যবহার করছেন মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে। তাঁর কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, একজন মানুষের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা অসংখ্য মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
মানবিকতা, উদারতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে হোসেন মনসুরি আজ শুধু একজন উদ্যোক্তা বা ইনফ্লুয়েন্সার নন; তিনি অসংখ্য মানুষের আশার আলো, বিপন্ন মানুষের নির্ভরতার নাম এবং মানবতার এক নীরব সৈনিক। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও মানবসেবার গল্প প্রমাণ করে, সত্যিকারের সাফল্য কেবল অর্থ বা খ্যাতিতে নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।