কলকাতা
আজ ৩ ডিসেম্বর স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিযুগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিনে দেশজুড়ে শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণে মুখর বিভিন্ন প্রান্ত। ১৮৮৯ সালের এই দিনে মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ক্ষুদিরাম, যিনি পরে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অন্যতম প্রথম শহিদ হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে ওঠেন। ছোটবেলা থেকেই অবিচার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব তাঁকে খুব অল্প বয়সেই জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের দিকে টেনে নিয়ে যায়। স্কুলজীবনেই বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার অঙ্গীকারে দৃঢ় হন তিনি।
দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বিসর্জনের পথে পদক্ষেপ নিতে তাঁর বয়স খুব বেশি ছিল না। ব্রিটিশ বিচারক কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে বিপ্লবী পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ক্ষুদিরাম। আদালতে বিচার শেষে ফাঁসির দণ্ড ঘোষিত হয়। মাত্র আঠারো বছর বয়সে হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করে দেশবাসীর চেতনায় এবং স্বাধীনতার ইতিহাসে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বকনিষ্ঠ শহিদদের একজন। “বন্দে মাতরম্” উচ্চারণ করে ফাঁসির মঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য আজও দেশের সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় ও আবেগঘন মুহূর্তগুলির একটি।
জন্মদিন উপলক্ষে আজ মেদিনীপুর, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজে ক্ষুদিরামের জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান এবং বিপ্লবীদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে তাঁকে সম্মান জানানো হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নাগরিক, ইতিহাসপ্রেমী এবং তরুণ-তরুণীরাও জন্মদিন উপলক্ষে নানাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ক্ষুদিরাম বসুকে স্মরণ করেছেন। তাঁর সরকারি এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, “বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিবসে তাঁকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা অনেক কিছু করেছি- এটা আমাদের গর্ব। ” তাঁর বার্তায় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এমন বিপ্লবীদের স্মৃতি ধরে রাখা ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সমাজ ও দেশের দায়িত্ব।
ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিনের স্মরণ আসলে স্বাধীনতার ইতিহাসে আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতি আবারও আলো ফেলেছে। তাঁর অদম্য চেতনা আজও স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়ের পথে দাঁড়াতে গেলে বয়স নয়, বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের স্বাধীনতার জন্য অন্তিম মুহূর্তেও যে হাসিমুখ বজায় রাখতে পারেন, সেই ক্ষুদিরাম আজও থেকে গেছেন চেতনাশক্তি, আন্দোলন ও আত্মমর্যাদার চিরন্তন প্রতীক হিসেবে।