বিদুশী গৌর / নয়া দিল্লি
-
কৌসর জাহান বর্তমানে দিল্লি হজ কমিটি (Delhi Hajj Committee)–র চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন, এবং দিল্লির ইতিহাসে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণকারী তিনি মাত্র দ্বিতীয় নারী।
মানুষের সঙ্গে গভীর ও প্রাণবন্ত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। আন্তরিকতা ও সহানুভূতি তাঁর ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি যেমন সাধারণ মানুষের ভাষায় সহজে কথা বলতে পারেন, তেমনি আত্মবিশ্বাস ও সৌজন্যের সঙ্গে দিল্লির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গেও সমান স্বাচ্ছন্দ্যে মতবিনিময় করেন।
যদিও তাঁকে সাধারণত এক সচ্ছল ও প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে ভাবা হয়, বাস্তবে তাঁর জীবনকে গড়ে উঠতে হয়েছে কঠোর পরীক্ষার ভিতর দিয়ে। গত বছরের মহামারির ভয়াবহ ঢেউয়ে তিনি হারান তাঁর বাবা–মা দুজনকেই। জীবনের ধারা হঠাৎ বদলে যায়, ব্যক্তিগত মানসিক আশ্রয় হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসাও অর্থনৈতিক চাপে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে। এত গভীর বেদনাবিধুর পরিস্থিতির মাঝেও নিজেকে দৃঢ়ভাবে সামলে নিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে এগিয়ে আসেন, যা সত্যিই অনন্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
তাঁর মা, প্রয়াত বেগম ফাতিমা হুসেন, ছিলেন এক সম্মানিত অভিজাত পরিবারের সদস্য। তাঁর প্রপিতামহ নওয়াব ফখর উল মুলক বাহাদুর ছিলেন হায়দ্রাবাদের নিজাম আমলের একজন খ্যাতিমান শিয়া অভিজাত। পিতৃপরিবারেও রয়েছে অসামরিক প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দীর্ঘ ঐতিহ্য। এই গৌরবময় পটভূমির প্রতি তিনি সম্মানবোধ রাখেন বটে, তবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে আজকের বিশ্বে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তাঁর বর্তমান আচরণ, কর্মশক্তি এবং সমাজসেবার মাধ্যমেই। কর্মই ব্যক্তিত্বের প্রকৃত মানদণ্ড।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কৌসর জাহান
বহু দেশে ভ্রমণের সুযোগ এবং বিদেশে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর হৃদয় সবসময় নিজের মাতৃভূমির সঙ্গেই যুক্ত থেকেছে। তিনি নিজেকে একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী মনে করেন। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নানা ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি যেমন একজন উদ্যোগী ব্যবসায়ী, তেমনি একজন নিবেদিত সমাজকর্মীও। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করা 'সম্পূর্ণা' (Sampoorna) সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা দীর্ঘ দিনের। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)–তে যোগদান করেছেন, যাকে তিনি জীবনের “সোনালী, এমনকি কেশর–রঙা সুযোগ” হিসেবে অভিহিত করেন।
তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর একাগ্রতা ও দৃঢ় সংকল্প। জনসেবার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, এটাই তাঁর মূল অনুপ্রেরণা। বিশেষভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের ক্ষমতায়ন ও দিকনির্দেশনায় তিনি অত্যন্ত সক্রিয়।
উদার মানসিকতা ও সম্প্রীতিময় পারিবারিক পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে তিনি মানবতার ঐক্যশক্তিতে গভীর বিশ্বাস রাখেন। তাঁর মতে, আমাদের চারপাশে নেতিবাচক খবরে ভরপুর এক পৃথিবী হলেও, আমরা যদি নিজেরাই একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারি, যদিও সেটি একজন মানুষের জীবনে সামান্য উন্নতি আনুক, তবু সেটাই প্রকৃত সাফল্য।
কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে কৌসর জাহান
তিনি ভারতকে সর্বাগ্রে রেখে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে চান সকলকে সঙ্গে নিয়ে। একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততাও এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত।
তাঁর উদারতা, নম্রতা এবং মার্জিত আচরণ মানুষের মনে দ্রুত ছাপ ফেলে। তবে এই কোমলতার অন্তরালে রয়েছে এক দৃঢ়, সহনশীল ও সাহসী মন। যে–কেউ তাঁর সংস্পর্শে এসে মুগ্ধ না হয়ে পারে না। একটি উদীয়মান নেত্রীর সকল গুণ তাঁর মধ্যে বিদ্যমান। নিঃসন্দেহে, তিনি এক উল্লেখযোগ্য ও নজরকাড়া নারী।