সুদীপ শর্মা চৌধুরী / গুয়াহাটি
স্বাধীনতার পর যখন ভারত এক নবযাত্রার সূচনায় দাঁড়িয়ে, তখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছিল নবগঠিত ভারত সরকারকে। সেই কঠিন সময়ে এক দৃঢ়চিত্ত, অকুতোভয় নেতা তাঁর প্রখর বুদ্ধি, অটল মনোবল ও অদম্য দেশপ্রেম দিয়ে ভারতকে একত্র করেছিলেন, তিনি ছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, ভারতের “লৌহমানব”।
গুজরাটের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া প্যাটেল ছোটবেলা থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী। আইন পেশায় সফলতার পরও তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন জাতির সেবায়। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ান, খেডা ও বর্ডোলি সত্যাগ্রহে তাঁর নেতৃত্ব কৃষকদের আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে এবং ব্রিটিশ শাসনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্যাটেলকে দেওয়া হয়েছিল এক দুঃসাধ্য দায়িত্ব, ভারতের ঐক্য রক্ষা ও গঠন। তিনি জানতেন, যদি এই রাজ্যগুলো আলাদা থেকে যায়, তবে ভারতের স্বাধীনতা অর্ধেক অসম্পূর্ণ থাকবে। অসাধারণ কূটনৈতিক দক্ষতা ও দৃঢ়তার মাধ্যমে তিনি একে একে সমস্ত রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করেন।কিছু রাজা রাজকুমার ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত, কেউ কেউ বিদ্রোহের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু প্যাটেল তাঁর যুক্তি, ধৈর্য ও প্রয়োজনে কঠোরতার মাধ্যমে সবাইকে রাজি করান। তাঁর এই দূরদর্শিতা আজও রাষ্ট্রনায়কের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।
দেশের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভারতের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তাঁর উদ্যোগেই গঠিত হয় অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস, যা আজও ভারতের ঐক্য ও শাসনব্যবস্থার মেরুদণ্ড। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে দেখা যায় এক নির্ভীক দেশপ্রেমিকের প্রতিচ্ছবি, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। তাঁর অটল বিশ্বাস ছিল, একতাই ভারতের শক্তি।
বক্তৃতা দেওয়া মুহূর্তে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
আজকের ভারত যখন ঐক্য, উন্নয়ন ও জাতীয় সংহতির পথে এগিয়ে চলেছে, তখন সর্দার প্যাটেলের জীবন আমাদের শেখায়, দৃঢ় সংকল্প, ন্যায়ের প্রতি আনুগত্য এবং জাতির প্রতি অটুট ভালোবাসাই একজন সত্যিকারের নেতার আসল পরিচয়।
তাই তিনি কেবল ইতিহাসের এক অধ্যায় নন, বরং ভারতের হৃদয়ে চিরজাগ্রত এক প্রেরণার উৎস, “লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল”, যিনি ভারতের মানচিত্রে ঐক্যের অমর ছাপ রেখে গেছেন।