একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগে নতুন ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ WBSSC-র, বদলেছে OBC সংরক্ষণ কাঠামো

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 36 m ago
একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগে নতুন ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ WBSSC-র, বদলেছে OBC সংরক্ষণ কাঠামো
একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগে নতুন ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ WBSSC-র, বদলেছে OBC সংরক্ষণ কাঠামো
 
কলকাতা: 
 
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নতুন তালিকা প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)। OBC সংরক্ষণের কাঠামোয় পরিবর্তনের পর সোমবার সন্ধ্যায় কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন।

তবে এই পরিবর্তনের পরও মোট শূন্যপদের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে WBSSC। কমিশন সূত্রে খবর, OBC সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশ হওয়ায় বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের বণ্টনে পরিবর্তন এসেছে। তবে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ১২,৪৪৫টিই থাকছে।

আইনি জটিলতা এবং ২০২৬ সালে রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের পর আগের OBC-A ও OBC-B—এই দুই স্তরের শ্রেণিবিন্যাস বাতিল করে একটি একক OBC শ্রেণি চালু করা হয়েছে।WBSSC আরও জানিয়েছে, যে প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই ইন্টারভিউ দিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের নতুন করে ইন্টারভিউ দিতে হবে না।

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট গোটা ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে সেটিকে “কলঙ্কিত ও ত্রুটিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করে। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারান।

এরপর তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে WBSSC একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন নিয়োগ পরীক্ষা নেয় এবং ওই বছরের শেষের দিকে ফল প্রকাশ করে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোয়।

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মোট ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টির কাউন্সেলিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং প্রার্থীরা সুপারিশপত্রও পেয়েছেন। কয়েকজন প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের প্রভাব পড়ে। গত মাসে WBSSC চেয়ারম্যান দুশান্ত নারালা জানিয়েছিলেন, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর থেকে যাচাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন আইনি পরামর্শ নিচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে যোগ্য শিক্ষকদের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন-সহ চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট করা হয় এবং রাজ্যকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়ায় রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এরপর শীর্ষ আদালত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

ডিজার্ভিং টিচার্স রাইটস ফোরামের মেহবুব মণ্ডলের বক্তব্য, ইন্টারভিউয়ের পর নতুন করে মেধাতালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর ফের কাউন্সেলিং হতে পারে, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতি সংক্রান্ত তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বারবার তৈরি হওয়া জটিলতাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব পড়ছে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার উপর।