কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুনর্নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে নির্বাচন আধিকারিকরা জানিয়েছেন।আধিকারিকদের মতে, সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটে মোট ২ লক্ষ ৩৬ হাজারেরও বেশি ভোটার অংশ নিতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রায় ১.১৫ লক্ষ মহিলা ভোটার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৯ জন ভোটার। মোট ২৮৫টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে।
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের সময় ফলতায় “গুরুতর নির্বাচনী অনিয়ম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার” অভিযোগে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।এই নির্বাচনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর খান, যিনি মঙ্গলবার নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন।
যদিও জাহাঙ্গীর খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান, তবুও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে না পারায় তাঁর নাম EVM-এ রয়ে গেছে। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির দেবাংশু পাণ্ডা, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সম্ভু নাথ কুর্মি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর আবদুর রাজ্জাক মোল্লা।
পুনর্নির্বাচনে মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে আটজন করে CAPF জওয়ান মোতায়েন রয়েছেন, যা এক পূর্ণ সেকশনের সমান বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
২৯ এপ্রিলের ভোটে প্রতিটি বুথে মাত্র চারজন করে জওয়ান মোতায়েন ছিল। এছাড়াও যেকোনও অশান্তি মোকাবিলায় ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।আগের ভোটে একাধিক বুথে EVM-এ সুগন্ধি পদার্থ ও আঠালো টেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এলাকায় গিয়ে তদন্ত করেন। পরে অন্তত ৬০টি বুথে কারচুপির প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগ ওঠে।EVM কারচুপির পাশাপাশি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বসানো ওয়েব ক্যামেরার ফুটেজ বিকৃত করার চেষ্টার অভিযোগও সামনে আসে।
এরপর বুথ-স্তরের আধিকারিক (BLO), প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকর্মী এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০১ সাল থেকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ফলতা কেন্দ্র জিতে আসছে। শুধুমাত্র ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এই আসনটি দখল করেছিল।