দেবকিশোর চক্রবর্তী
শহরজুড়ে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে কুখ্যাত ‘ইরানি কেপমার গ্যাং’। শুক্রবার রাতে উল্টোডাঙা এবং ফুলবাগান এলাকায় পরপর দুই চুরির ঘটনার পর পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই দুষ্কৃতী। দু’জনই পেশাদার চোর এবং চুরির কৌশলে অভ্যস্ত বলেই জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাগুলি ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠেছে, শহরে সক্রিয় এই কেপমার চক্রকে রুখতে পুলিশের নজরদারি কতটা কার্যকর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ঘটনা ঘটে উল্টোডাঙা এলাকায়। একটি এটিএম কাউন্টারে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চাতুরীর সঙ্গে টাকা হাতিয়ে নেয় এক দুষ্কৃতী। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উল্টোডাঙা থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভুক্তভোগী যখন টাকা তুলছিলেন, তখন পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা অভিযুক্ত হঠাৎ “কার্ড আটকে গিয়েছে” বলে ভয় দেখিয়ে পুরো টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, ফুলবাগান এলাকায় মিনিবাসে ঘটে দ্বিতীয় চুরির ঘটনা। অফিস ফেরত এক যাত্রী বুঝতে পারেন, চলন্ত গাড়িতে তাঁর ব্যাগ কাটা হয়েছে এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উধাও। যাত্রীদের বর্ণনা ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে।
ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক এটিএম কার্ড, মোবাইল ফোন, কিছু নগদ অর্থ এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, তারা শহরের বিভিন্ন ভিড় এলাকায় ঘুরে বেড়াত এবং সুযোগ পেলেই এটিএম বা গণপরিবহনে চুরির কাজ করত। পুলিশের ধারণা, এরা বৃহত্তর এক কেপমার চক্রের সদস্য এবং কলকাতা ও আশপাশের জেলায় তাদের আরও সহযোগী ছড়িয়ে আছে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “এই গ্যাং মূলত মানুষকে বিভ্রান্ত করে প্রতারণা করে। এটিএমে সাহায্যের নাম করে, বা রাস্তা ও বাসে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে সুযোগ নিয়ে তারা চুরি করে। এদের কৌশল অনেক সময় সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেন না।”
পুলিশ নাগরিকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে এটিএম ব্যবহার বা জনাকীর্ণ স্থানে চলাফেরার সময় অচেনা কাউকে সাহায্য চাইতে বা দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সন্দেহজনক কোনও পরিস্থিতি বা ব্যক্তিকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশের একাংশ মনে করছে, সম্প্রতি উৎসবের মরসুমে শহরে বাড়তি ভিড়ের সুযোগ নিচ্ছে এই চক্র। বিভিন্ন বাজার, ব্যাঙ্কের সামনের এলাকা ও গণপরিবহনে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় আগেও ইরানি কেপমার গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবুও তাদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি রোধ করা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কবে নাগরিকরা নিশ্চিন্তে এটিএম ব্যবহার বা বাসযাত্রা করতে পারবেন।