মেঘালয়ে যুবক হত্যাকাণ্ডে তিনজন আটক, মুখ্যমন্ত্রী সাংমার সম্প্রীতির বার্তা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 Months ago
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা
 
শিলং 

মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আবহে রাজ্যের মানুষকে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা। শনিবার তিনি বলেন, গারো পাহাড় অঞ্চলে কোনও গুজব বা উস্কানিমূলক খবরের ফাঁদে না পড়ে সবাইকে সংযম দেখাতে হবে।
 
শুক্রবার রাজাবালা গ্রামের কাছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর জখম হন দু’জন। তাঁদের মধ্যে দিলসেং এম সাংমা নামে এক যুবকের পরে মৃত্যু হয়। তিনি গারো পাহাড়ভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আচিক’-এর সদস্য ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই গ্রেপ্তারি হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তদন্ত চলছে।
 
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কনরাড সাংমা বলেন, “এই নৃশংস অপরাধে যারা জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শনিবার বিকেলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। ওই বৈঠকে শান্তি কমিটি গঠনসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
 
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা খবর ঘুরছে। সেগুলি যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না। গারো পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে কয়েকজন যুবক একটি কথিত অবৈধ পাথর খাদান ‘পরিদর্শন’ করতে রাজাবালা গ্রামের কাছে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি আটকায় আরেকটি দল। কথা কাটাকাটি থেকেই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথম দলের বেশিরভাগ সদস্য পালাতে পারলেও দু’জন গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে একজনের মৃত্যু হয়।
 
কেন এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পশ্চিম গারো পাহাড়ের পুলিশ সুপার আব্রাহাম টি সাংমা জানান, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে এবং সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
 
এদিকে, গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জিএসইউ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি দিলসেং সাংমার “নৃশংস ও ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড”-এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, জড়িত সকলের দ্রুত সনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে কোনও গড়িমসি হলে তারা গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
 
শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার পাশাপাশি কোনও রকম গুজব বা উসকানিমূলক বক্তব্যে কান না দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাস, তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গারো পাহাড় অঞ্চলে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।