চৈত্রেই ঝড়ের তাণ্ডব! কালবৈশাখীর দাপটে বিপর্যস্ত কলকাতা, জারি রেড এলার্ট

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 4 d ago
চৈত্রেই ঝড়ের তাণ্ডব! কালবৈশাখীর দাপটে বিপর্যস্ত কলকাতা, জারি রেড এলার্ট
চৈত্রেই ঝড়ের তাণ্ডব! কালবৈশাখীর দাপটে বিপর্যস্ত কলকাতা, জারি রেড এলার্ট
 
 
কলকাতা

চৈত্রের দহনজ্বালা কাটতে না কাটতেই আচমকাই কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কেঁপে উঠল কলকাতা। সোমবার সন্ধ্যার পর আকাশ জুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা, তারপরেই বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মহানগর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা।
 
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার ছুঁয়েছে। দমকা হাওয়ার দাপটে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বড় গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও আবার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে।
 
বিশেষ করে অফিস ফেরত সময়ে এই দুর্যোগ নেমে আসায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। রাস্তায় গণপরিবহণের সংকট দেখা দেয়, বাস ও ট্যাক্সি অপ্রতুল হয়ে পড়ে। অনলাইন ক্যাব পরিষেবাও প্রায় অচল হয়ে যায় দীর্ঘ সময়ের জন্য। জল জমে যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, ফলে যানজট আরও বৃদ্ধি পায়।
 
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর।
 
এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জারি হয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস।
 
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার সাময়িকভাবে ঝড়ের তীব্রতা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বরং সপ্তাহান্তে, বিশেষ করে শনিবার ও রবিবার, ফের এক দফা প্রবল ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে এই দুর্যোগ চলতে পারে।
 
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় ‘কমলা সতর্কতা’ জারি রয়েছে।
 
এদিকে, চৈত্র সংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখের মুখে এই আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ফুটপাতের দোকানদার ও খোলা বাজারের বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন পণ্য নষ্ট হওয়ার।
 
তাপমাত্রার দিক থেকেও স্বস্তি পুরোপুরি নেই। এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। আর্দ্রতার মাত্রাও ছিল বেশ চড়া, ফলে গরম ও অস্বস্তি বজায় রয়েছে।
 
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও ঝড়ের প্রভাব স্পষ্ট। শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। বহু জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর মিলেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এখনও বেশ কিছু এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি।
 
প্রশাসনের তরফে নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না দাঁড়ানো, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছি না যাওয়ার মতো সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
 
সব মিলিয়ে, চৈত্রের শুরুতেই কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব যেমন গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার ছায়া। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।