বৃষ্টিতে কাঁচা ঘর ভেঙে পড়তেই আঝোরে কাঁদছেন অসুস্থ হযরত মোল্লা! ১৮ দিন পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ছেলের, ঠাঁই এখন খোলা আকাশের নীচে

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 20 h ago
বৃষ্টিতে কাঁচা ঘর ভেঙে পড়তেই আঝোরে কাঁদছেন অসুস্থ হযরত মোল্লা! ১৮ দিন পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ছেলের, ঠাঁই এখন খোলা আকাশের নীচে
বৃষ্টিতে কাঁচা ঘর ভেঙে পড়তেই আঝোরে কাঁদছেন অসুস্থ হযরত মোল্লা! ১৮ দিন পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ছেলের, ঠাঁই এখন খোলা আকাশের নীচে
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ 

১৮ দিন পর ছেলের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, টানা বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল মাটির ঘর। বই-খাতা সহ ঘরের সব জিনিসপত্র চাপা পড়ে অথৈ জলে এখন অসুস্থ হযরত মোল্লা ও তাঁর পরিবার। কপাল জোরে প্রাণটুকু রক্ষা পেলেও লাগাতার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মাটির দেওয়াল আর মাথার ওপর থেকে সরে গেল ত্রিপলের চালটুকুও। হজরত মোল্লার কাঁচা বাড়ির মাটির দেওয়াল পড়ে গিয়ে তার তলায় চাপা পড়ে গেল সন্তানের বই-খাতা, জামাকাপড় আর সংসারের সামান্য আসবাবগুলো। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ ব্লকের রামেশ্বরপুর বরুনহাট পঞ্চায়েতের দিঘীরপাড় এলাকায়। বলা যেতে পারে, ভিটেমাটি হারিয়ে এখন সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় হযরত মোল্লার পরিবার।
 

পরিবারের এই দুঃসময়ে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে হজরত মোল্লার একমাত্র ছেলে সাইন মোল্লা। আর মাত্র ১৮ দিন পরই সাইনের উচ্চমাধ্যমিকের ফার্স্ট সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে যে বই-খাতাগুলো এখন সবচেয়ে বেশী সঙ্গী ছিল প্রবল বর্ষায় তা এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। সংসারের চরম অভাব অনটন থাকলেও কষ্ট করে হলেও ছেলেটিকে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন মা-বাবা। কিন্তু পরীক্ষার মুখে বসতবাড়ি ভেঙে পড়ায় এবং সরকারি নথি ও বইপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন দিশেহারা হজরত ও তার পুরো পরিবার।
 
সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক এই পরিবার। সংসারটা কোনরকম চালাতে জীবনসংগ্রাম করতে হয় হজরতের স্ত্রীকে। হযরত মোল্লা নিজে শারীরিকভাবে অসুস্থ, উপার্জনে অক্ষম। সংসার টানতে তাঁর স্ত্রী পরের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। তাতে সামান্য যে আয়টুকু হয় তাতে কোনোরকমে দুবেলার অন্নসংস্থান হয়। অভাবের কারণে পাকা বাড়ি তৈরির সামর্থ্য কোনদিন হয়নি। তাই তো দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ মাটির ঘরেই দিন কাটছিল তাদের। হযরত মোল্লার পরিবারের অভিযোগ, মাথার ওপর একটা পাকা ছাদের আশায় স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে কতবার ঘুরেছেন। আবেদন জানিয়েও মেলেনি কোনো সরকারি আবাসন প্রকল্প।
 
তাঁদের প্রশ্ন, তাঁদের মতো ভূমিহীন ও চরম অভাবী মানুষ যদি সরকারি ঘরের সুবিধা না পায়, তবে কার জন্য এই প্রকল্প? প্রতিশ্রুতির আড়ালে শুধুই অবহেলা কুড়িয়েছেন বলে আক্ষেপ জানাল পরিবার। হজরতের ছেলে সাইন জানাল, আর কদিন পরেই আমার পরীক্ষা শুরু হবে। বইখাতা সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমার বোধহয় আর পরীক্ষা দেওয়া হবে না।
 
ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে গোটা ঘটনার কথা জানতে পেরে স্থানীয় রামেশ্বরপুর বরুনহাট পঞ্চায়েতের প্রধান কালাম গাজি দ্রুত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, পরিবারটির চরম বিপদে পঞ্চায়েত পাশে থাকবে। ১৮ দিন পর পরীক্ষার টেবিলে বসার আগে ঘরহারা সাইনের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, মাথার ওপর ছাদ আর পড়ার বইখাতা, দুটো কি সময়মতো ফিরবে?