‘নবনির্মাণের’ বার্তা নিয়ে নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর, প্রথম কর্মদিবসেই প্রশাসনে কড়া নজর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Aparna Das • 10 h ago
শুভেন্দু অধিকারী
শুভেন্দু অধিকারী
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথের দু’দিনের মধ্যেই সোমবার নবান্নে শুরু হচ্ছে তাঁর সরকারের প্রথম প্রশাসনিক কর্মদিবস। আর সেই প্রথম দিনেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে প্রশাসনের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রাধিকার স্পষ্ট করতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
 
শনিবার শপথ গ্রহণের পর থেকেই সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় শুভেন্দুকে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের অস্থায়ী কার্যালয়ে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অবস্থা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয় সেই বৈঠকে।
 
এরপর শনিবার রাতেই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে ফিরে যান শুভেন্দু। রবিবার দিনভর সেখানেই ছিলেন তিনি। বিকেলের পর কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন, কারণ সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে তাঁর প্রশাসনিক ব্যস্ততা।
 
সূত্রের খবর, সোমবার নবান্নে পরপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম বৈঠকটি হবে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে। প্রশাসনের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন দফতরের অগ্রাধিকার এবং সরকারের আগামী রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে সেখানে। এরপর দুপুরে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন জেলার উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক সমস্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
দিনের শেষ বৈঠকটি হবে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে। উপস্থিত থাকতে পারেন ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জ়োনের উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা। নতুন সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় কীভাবে এগোবে, সেই বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম নবান্ন সফর ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজরকাড়া। রবিবার দুপুরের পর থেকেই নবান্ন চত্বরে তৎপর হয়ে ওঠে কলকাতা ও হাওড়া পুলিশ। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ এবং হাওড়া পুলিশের কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীর নেতৃত্বে গোটা এলাকা খতিয়ে দেখা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক কক্ষ থেকে শুরু করে প্রবেশপথ, নিরাপত্তা বলয়, সব কিছুই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিশেষ বৈঠকও করেন দুই পুলিশ কমিশনার।
 
রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা নিয়েও ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের। নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রমাণিক। আদিবাসী, মতুয়া ও রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে এই নির্বাচনে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁদের দফতর বণ্টন করা হয়নি।
 
শপথের পর শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে। আমরা পশ্চিমবাংলাকে নবনির্মাণ করব।” একইসঙ্গে তিনি বিরোধিতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়ার বার্তাও দেন।
 
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর সাধারণ মানুষের নজর এখন নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপের দিকে। নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক তাই শুধু সরকারি কর্মসূচি নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রথম কর্মদিবসে কী বার্তা দেন এবং প্রশাসনকে কোন পথে পরিচালিত করতে চান, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।