বাংলাদেশের ভোটের দিনে অনিশ্চয়তার ছায়া, মেদিনীপুরের উরশে আসছে না রাজবাড়ির বিশেষ ট্রেন

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
বাংলাদেশের ভোটের দিনে অনিশ্চয়তার ছায়া, মেদিনীপুরের উরশে আসছে না রাজবাড়ির বিশেষ ট্রেন
বাংলাদেশের ভোটের দিনে অনিশ্চয়তার ছায়া, মেদিনীপুরের উরশে আসছে না রাজবাড়ির বিশেষ ট্রেন
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ভোটগ্রহণ। দু’দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এ বছর মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী উরশে অংশ নিতে কোনও পদক্ষেপই নিল না বাংলাদেশস্থিত আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া কমিটি। ফলে ১২৫তম উরশ উপলক্ষে রাজবাড়ি থেকে বিশেষ ট্রেন চালু হচ্ছে না।
 
ধর্মীয় এই সংস্থাই প্রতিবছর ‘উরশ স্পেশাল’ ট্রেনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পুন্যার্থীদের মেদিনীপুরে আনার দায়িত্ব পালন করে। ১২৪ বছরের ইতিহাসে এ নিয়ে মোট ছ’বার বিশেষ ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকল। সংস্থার সভাপতি মহম্মদ মহবুব উল আলম জানান, “সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বছর পুন্যার্থীদের নিয়ে মেদিনীপুর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আবার যেতে পারব।” দু’দেশের মৈত্রীর সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক, এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
 

প্রতি বছর বাংলার ফাল্গুন মাসের ৪ তারিখ মেদিনীপুর শহরের মির্জামহল্লার জোড়া মসজিদে মহান সুফি সাধক সৈয়দ শাহ মুর্শেদ আলি আলকাদেরী আলবাগদাদী, যিনি ‘মওলাপাক’ নামে পরিচিত, তাঁর উরশ পালিত হয়। এ বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ১২৫তম উরশ। উরশকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুরে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। জোড়া মসজিদ ও সংলগ্ন মাঝার এলাকায় তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
 
বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই আসেন প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে। প্রায় প্রতি বছরই রাজবাড়ি থেকে প্রায় দুই হাজারের বেশি পুন্যার্থী নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেন মেদিনীপুরে পৌঁছায়। এই ট্রেন পরিচালনার দায়িত্বে থাকে আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া।
 
তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির টালমাটাল অবস্থা, হাসিনা সরকারের পতনের পরবর্তী অস্থিরতা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন ইস্যু এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক জটিলতার কারণে গত বছরও বিশেষ ট্রেন চালু করা যায়নি। এবছর পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা দুই দেশের সরকারের কাছেও অনুমতির আবেদন করেননি।
 
মহবুব উল আলম বলেন, “আমরা দুই দেশের মধ্যে মেলবন্ধনের কাজ করে থাকি। মুক্তিযুদ্ধ ও করোনার সময় মিলিয়ে চার বছর স্পেশাল ট্রেন চালানো যায়নি। গত বছর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সফল হইনি। এ বছরও যাচ্ছি না। আগামী বছরে সবকিছু স্বাভাবিক হবে, এই আশাতেই রয়েছি।”
 
দু’দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও পড়ছে, মেদিনীপুরের উরশে বাংলাদেশি ভক্তদের অনুপস্থিতিই তার সাম্প্রতিক উদাহরণ। এখন অপেক্ষা আগামী বছরের, সম্পর্কের বরফ গলবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে দুই বাংলার ভক্তসমাজ।