‘গণহারে ভোটাধিকার হরণ স্বেচ্ছাচারী, কোনও পাল্টা যুক্তিই গ্রহণযোগ্য নয়’: বিচারপতি ভূঁইয়া

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
‘গণহারে ভোটাধিকার হরণ স্বেচ্ছাচারী, কোনও পাল্টা যুক্তিই গ্রহণযোগ্য নয়’: বিচারপতি ভূঁইয়া
‘গণহারে ভোটাধিকার হরণ স্বেচ্ছাচারী, কোনও পাল্টা যুক্তিই গ্রহণযোগ্য নয়’: বিচারপতি ভূঁইয়া
 
নয়াদিল্লি: 
 
ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই নাগরিকের ভোটাধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া। তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও প্রক্রিয়া যা গণহারে ভারতীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তা স্বভাবতই স্বেচ্ছাচারী। লক্ষ লক্ষ নাগরিককে ভোটাধিকারহীন করে তাঁদের নিজের দেশেই ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’-এ পরিণত করার মতো কোনও পদক্ষেপকে কোনও ‘পাল্টা যুক্তি’ দিয়েই সমর্থন করা যায় না।

রবিবার হায়দরাবাদের NALSAR University of Law-এ ১৯তম NALSAR-Justice B.R. Sawhney Memorial Moot Court Competition-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন বিচারপতি ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধান ভোটাধিকার থাকা এবং না-থাকা—এমন দুই শ্রেণির নাগরিকের ধারণা দেয় না। তাঁর মতে, নাগরিকদের ব্যাপক হারে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনও প্রক্রিয়া সংবিধানের ১৪ ও ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বিচারপতি ভূঁইয়া আরও বলেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া শুধু সংবিধানের একটি নির্দিষ্ট বিধানের প্রশ্ন নয়, বরং তা সাংবিধানিক ব্যবস্থার মূল কাঠামোকেই স্পর্শ করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোট দেওয়ার অধিকার নিছক সংসদীয় আইনের মাধ্যমে পাওয়া কোনও বিধিবদ্ধ অধিকার নয়; এটি সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে উৎসারিত একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।

তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় থেকে ভোট দেওয়ার অধিকারকে আলাদা করা যায় না। তাঁর উপমা, নাগরিকের পরিচয় থেকে ভোটাধিকার বিচ্ছিন্ন করা অনেকটা শরীর থেকে আত্মাকে বের করে নেওয়ার মতো। মৃত ভোটার ছাড়া ভোটার তালিকায় একবার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তা বাদ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিস দেওয়া এবং বক্তব্য রাখার সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভোটাধিকারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিচারপতি ভূঁইয়া ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গও টানেন। তাঁর মতে, সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার দেশের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। তাই সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদকে কোনও কর্তৃপক্ষের ইচ্ছামতো বদলে দেওয়া যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন কোটিপতি এবং একজন রিকশাচালকের ভোটের মূল্য সমান। সর্বজনীন ভোটাধিকারের মধ্যেই এই রাজনৈতিক সমতার প্রকাশ রয়েছে। ফলে ভোটাধিকার কেবল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার একটি মাধ্যম নয়, নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক সমতার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

বিচারপতি ভূঁইয়ার এই বক্তব্য এসেছে নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের সময়। ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা ও অভিযোগ সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটেই ভোটাধিকার এবং ভোটার তালিকায় নাম থাকার সাংবিধানিক গুরুত্ব নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে বিচারপতি ভূঁইয়ার বক্তব্যকে কোনও নির্দিষ্ট SIR মামলার রায় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি ছিল NALSAR-এর অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর সাংবিধানিক ও নীতিগত পর্যবেক্ষণ। একই সময়ে SIR সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে।

বিচারপতির বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল—ভোটাধিকারকে নাগরিকত্ব, সাংবিধানিক সমতা এবং গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে একই সূত্রে দেখা। তাঁর কথায়, কোনও কর্তৃপক্ষই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয় এবং ভোটাধিকার থেকে গণহারে নাগরিকদের বঞ্চিত করার কোনও প্রক্রিয়াকে আদালতও অনুমোদন করতে পারে না।


শেহতীয়া খবৰ