১০ অক্টোবরের আগে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা, আন্দোলন চলবে: CJP

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
১০ অক্টোবরের আগে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা, আন্দোলন চল
১০ অক্টোবরের আগে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা, আন্দোলন চল
 
নয়াদিল্লি: 

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র হচ্ছে। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড়সড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তার আগেই দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তবে তাঁর এই দাবি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সৌরভ দাসের অভিযোগ, ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি ভেস্তে দিতে সরকার তাঁকে, CJP-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, রত্না-সহ দলের অন্য নেতাদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছে। রবিবার গভীর রাতে এক্স-এ পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্ম ইতিমধ্যেই জেগে উঠেছে এবং নেতাদের গ্রেপ্তার করলেও বিক্ষোভ থামবে না।

CJP-র এই হুঁশিয়ারির পটভূমিতে রয়েছে গত কয়েক দিনের একের পর এক বিক্ষোভ। ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে CJP-র ডাকে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। সেখান থেকেই অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ১০ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ‘ককরোচ’রা দিল্লিতে এসে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন। তিনি আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানিয়ে মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথ অনুসরণের বার্তাও দেন।

এই আন্দোলনের মূল দাবি শুধু CEC-র পদত্যাগ নয়। CJP নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এর ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ ও SIR-কে নিয়ম মেনেই পরিচালিত প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে।

এদিকে দিল্লিতেও আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। ৩ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের অনেককে আটক করা হয়। ওই দিনের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশ তিনটি FIR-ও দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাগুলিতে আপাতত কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনকে অভিযুক্ত করা হয়নি; তবে বিক্ষোভের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলির তথ্য FIR-এ উল্লেখ রয়েছে।

এর মধ্যেই CJP-র পক্ষ থেকে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ দীপকে এক্স-এ লিখেছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ১০ অক্টোবর সারা দেশ থেকে মানুষ দিল্লিতে এসে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করবেন। দিল্লি পুলিশ বাধা দিলে যেখানে আন্দোলনকারীদের থামানো হবে, সেখানেই বিক্ষোভ চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সৌরভ দাসও দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার বা দমনমূলক পদক্ষেপে আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আগামী কয়েক দিনে কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


শেহতীয়া খবৰ