‘বোরখা’ মন্তব্য বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া মৈত্র, হাইকোর্টের তদন্ত সংক্রান্ত নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ
নয়াদিল্লি/কলকাতা:
‘বোরখা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কলকাতা হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন, যেখানে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট দিনে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আইনজীবী মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ জুলাই নদিয়া জেলায় এক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বিক্ষোভের মুখে পড়ে মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, তিনি বলেছিলেন—“ডিম ছোড়ার সময় বোরখা পরে আসুন, তাহলে কেউ চিনতে পারবে না।” এই মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট মহুয়া মৈত্রকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও তদন্তে স্থগিতাদেশ দেয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, পুলিশ আইন মেনে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে এবং মহুয়াকে আগামী ১৪ আগস্ট তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হতে হবে। একই সঙ্গে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেয়, হাজিরার সময় সাংসদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের হেনস্থা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তা দেখতে হবে।
হাইকোর্ট আরও জানায়, আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না।
এবার সেই নির্দেশেরই কিছু অংশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন মহুয়া। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, তদন্ত সংক্রান্ত নির্দেশ এবং হাজিরার শর্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য, মন্তব্যটি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাক ও সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
রাজনৈতিক মহলেও এই মামলাকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একাংশের মতে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, জন প্রতিনিধিদের বক্তব্যে আরও সংযমী হওয়া প্রয়োজন।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী পর্যবেক্ষণ দেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কী নির্দেশ দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী গতিপথ।