১-২ বছরের মধ্যেই আর্থিকভাবে শক্তিশালী হবে বাংলা, সব ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি হবে: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা:
আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হবে এবং শিল্প-সহ সব ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি করবে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘কলকাতা কৌতুর এক্সপো’-র উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১৭ আগস্ট পুরুলিয়ায় ৪,০০০ কোটি টাকার একটি ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করবেন তিনি।
তিনি বলেন,“আগামী এক-দু’বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে শক্তিশালী হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুত উন্নতি হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫টি শিল্প সংস্থাকে জমি হস্তান্তর করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি নতুন জমি অধিগ্রহণ নীতি চালু করেছে। পাশাপাশি প্রতি মাসেই নতুন শিল্প প্রকল্পের শিলান্যাস করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের চা ও বস্ত্র শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্মলা সীতারামন নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের বস্ত্র শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেছিলেন এবং রাজ্যের এই শিল্পের সম্ভাবনার প্রশংসা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।তিনি আরও জানান, ২৪ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে নির্মলা সীতারামন আবারও পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবেন।
রাজ্যে বেকারত্বের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষিত যুবসমাজ এবং মানবসম্পদের কোনো অভাব নেই। সরকার ও শিল্পমহল একযোগে কাজ করলে এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।তিনি বলেন,“পশ্চিমবঙ্গকে বর্তমান অবস্থা থেকে বের করে আনতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।”
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের নাম না করে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ এবং গুন্ডারাজের সংস্কৃতি বদলাতে হবে। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে শিল্পের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি সরকারের প্রায় ১০০ দিনের শাসনেই আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিনি শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে বলেন,“আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এখানে কোনো গুন্ডারাজ চলবে না। শিল্পবান্ধব পরিবেশ, উন্নত শিল্পনীতি, সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স এবং জমির ব্যবস্থা সরকার নিশ্চিত করবে।”
বস্ত্র শিল্পের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বিদ্যমান আইন সংশোধন করতেও সরকার প্রস্তুত। শিল্প প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। বহু দফতরের আর্থিক নিরীক্ষাও বছরের পর বছর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রের সমালোচনা করলেও কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি বাবদ প্রাপ্য অর্থের প্রায় ৯০ শতাংশ রাজ্যকে প্রদান করেছিল।
কলকাতা কৌতুর এক্সপো প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রদর্শনী থেকে ৫০০ থেকে ১,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে বলে তাঁর আশা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পোদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা আমাদের দেশ। দেশের সব প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসেছেন, এতে আমি গর্বিত।”