১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, রুবিওর সফরে কূটনীতি ও বিনিয়োগ জল্পনা তুঙ্গে

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 11 h ago
১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, রুবিওর সফরে কূটনীতি ও বিনিয়োগ জল্পনা তুঙ্গে
১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, রুবিওর সফরে কূটনীতি ও বিনিয়োগ জল্পনা তুঙ্গে
 
কলকাতা

দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন মার্কিন বিদেশসচিব। হিলারি ক্লিনটনের পর এবার শহরে এলেন মার্কো রুবিও। শনিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। বিদেশসচিবের এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
 
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তালতলার মাদার হাউজে যান রুবিও দম্পতি। সেখানে প্রায় দু’ঘণ্টা কাটানোর পর তাঁরা যান একটি চিলড্রেনস হোমে। সূত্রের খবর, কলকাতার ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালও ঘুরে দেখার কথা রয়েছে তাঁদের। এরপর দুপুরেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন মার্কিন বিদেশসচিব। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
 
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সোশ্যাল মিডিয়ায় রুবিওর সফরের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, এটি মার্কো রুবিওর প্রথম ভারত সফর এবং দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। জানা গিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি আগ্রা ও জয়পুর সফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
 
তবে রুবিওর কলকাতা সফরকে ঘিরে শুধু সৌজন্য কূটনীতির আলোচনাই নয়, উঠছে একাধিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নও। সম্প্রতি বাংলায় অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপি প্রথমবার রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই শিল্প, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তা দিয়েছেন। দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শিল্প বিনিয়োগের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
 
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফরকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন বারবার বিদেশি বিনিয়োগ টানার ওপর জোর দিচ্ছেন, তখন মার্কিন প্রতিনিধিদলের এই সফরকে ঘিরে শিল্পমহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বাংলায় আগামী দিনে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
 
আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সম্প্রতি বাংলাদেশের লালমণিরহাট বিমানঘাঁটিতে চিনা বিনিয়োগ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে কৌশলগত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফরকে অনেকেই বেজিংকে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
 
সব মিলিয়ে, কলকাতা থেকে দিল্লি, মার্কো রুবিওর এই ভারত সফর শুধু প্রোটোকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য, ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা এবং বিদেশি বিনিয়োগ, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই সফর।