গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সরব ইমাম মোয়াজ্জেনরা, সম্প্রীতির নয়া ইতিহাস স্বরূপনগরে

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 10 h ago
গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সরব ইমাম মোয়াজ্জেনরা
গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সরব ইমাম মোয়াজ্জেনরা
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

কুরবানির আগে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন ইমাম-মোয়াজ্জেনরা। সমাজকে সচেতনতার পাঠ দিয়ে যত্রতত্র গো হত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে সরব হন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরের ইমাম-মোয়াজ্জেনরা।
 
ধর্মীয় ব্যাখায়, ত্যাগের উৎসব ইদুজ্জোহা। ঠিক তার আগেই সীমান্ত এলাকা উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমায় দেখা গেল এক নজিরবিহীন বিষয়। চিরাচরিত রীতির বাইরে গিয়ে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন স্থানীয় ইমাম ও মোয়াজ্জেনরা। শুধু মৌখিক দাবিতেই থেমে থাকেন নি তাঁরা।  রীতিমতো স্লোগান তুলে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিলেন। ধর্মীয় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়ে ইমাম-মোয়াজ্জেনরা যে বার্তা যোগ করলেন তাতে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
 

সূত্রের খবর, স্বরূপনগর ব্লক অফিসে ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলেন বিডিও। ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসন সহ রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিত্বরা। সভায় সরকারি আধিকারিকরা গো হত্যা সংক্রান্ত বর্তমান সরকারি নির্দেশিকা ও কড়া আইনি নিয়মকানুন ইমামদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি জানানো হয় সরকারি আইন অমান্য করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
 
প্রশাসনের এই সতর্কবার্তার পরেই সকলে মিলে দারুন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান। উপস্থিত ইমাম ও মোয়াজ্জেনরা একত্রিত হয়ে জানিয়েদেন, কোনোভাবেই নিয়মের বাইরে গিয়ে গো হত্যা করা যাবে না। পাশাপাশি তাঁরা দাবি তুলে বলেন, গরুকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দিতে হবে। গো হত্যার বিরুদ্ধে তাঁরা সম্পূর্ণ একমত হয়ে জানান, কেউ এই আইন অমান্য করে গো হত্যা করলে প্রশাসন যেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়। অনৈতিক কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানানো হয় সকলের পক্ষ থেকে।
 
সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে ইমামরা আরও কিছু দূরদর্শী প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা জানান, কুরবানির সময় যেন সম্পূর্ণ ভিডিও বা ছবি রেকর্ড করে রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, কুরবানিকে কেন্দ্র করে কোনো কুচক্রী মহল যাতে সোশ‍্যাল মিডিয়ায় কোনো রকম বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক ভুয়ো প্রচার চালাতে না পারে। পাশাপাশি, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁরা মানবিক আবেদনও রেখেছেন প্রশাসনের কাছে। তাদের যুক্তি ইতিমধ‍্যেই কুরবানির জন্য অনেকেই গরু কিনে ফেলেছেন। ফলে সরকার যদি তাঁদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করে তবে আরও ভালো হয়।
 
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগে স্বরূপনগরের ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের এই দায়িত্বশীল চিন্তাভাবনা যেন গোটা সমাজকেই এক ইতিবাচক বার্তা দিয়ে দিল। আইনকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে তাঁদের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা।