হাফপ্যান্ট-লুঙ্গি পরে চালানো যাবে না অটো-টোটো! মহিলাদের ‘অস্বস্তি’ রুখতে চালকদের ‘পোশাক-ফতোয়া’ নিয়ে তোলপাড় বারাসাত
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
হাফপ্যান্ট বা লুঙ্গি পরে আর চালানো যাবে না অটো-টোটো! বারাসাত পুলিশ জেলার এক ট্রাফিক আধিকারিকের সতর্কতার এই ভিডিও এখন সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। গণপরিবহনের চালকদের পোশাক বিধি নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের এই কড়াকড়ি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হতে সময় নেয়নি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি রাজ্য সরকার নতুন কোনও নির্দেশিকা জারি করল? এই প্রশ্নের উত্তর যখন খুঁজে চলেছে আমজনতা ঠিক তখনই জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা অবশ্য জানিয়ে দিলেন এমন কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার যশোর রোডের বামনগাছি চৌমাথা এলাকায় একটি সচেতনতা শিবির চালানো হয় দত্তপুকুর ট্রাফিক গার্ডের ওসি দেবদাস দেবনাথের নেতৃত্বে। ভিডিওতে দেখা যায়, যে সমস্ত অটো বা টোটো চালক লুঙ্গি বা হাফপ্যান্ট পরে গাড়ি চালাচ্ছেন, সচেতনতার উদ্দেশ্যে তাঁদের দাঁড় করিয়ে বোঝানো হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের দাবি, গণপরিবহনে প্রতিদিন বহু মহিলা যাত্রী যাতায়াত করেন অটো বা টোটোতে। অভিযোগ উঠেছিল, চালকদের পোশাকের কারণে অনেক সময় মহিলা যাত্রীরা অস্বস্তি বোধ করেন। তাছাড়া, লুঙ্গি পরে ব্রেক বা এক্সিলারেটর নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই নারী নিরাপত্তা ও রাস্তায় দুর্ঘটনা রুখতে এই সচেতনতার উদ্যোগ।
অটো বা টোটো চালকদের পোষাক বিধি নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের অতি উৎসাহ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে যাতে কোন ভুল বোঝাবুঝি না হয় সেই কারণে, বারাসাত জেলা পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, সরকারিভাবে পোশাক নিয়ে এমন কোনও গাইডলাইন বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। সম্ভবত কোনও ভিডিওতে মহিলা যাত্রীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দেখেই ওই আধিকারিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে চালকদের সচেতন করছিলেন। তবে ট্রাফিক আধিকারিক যদি এক্তিয়ার বহির্ভূত কিছু করে থাকেন তবে প্রশাসনের তরফে অবশ্যই বিভাগীয় তদন্ত হবে।
আসলে বামনগাছি এলাকাটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় স্থানীয় পুরুষদের মধ্যে লুঙ্গি পরার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। পুলিশের এই হঠাৎ করে আপত্তিতে গাড়ি চালকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু চালক জানান, তীব্র গরমের কারণে একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাঁরা হাফপ্যান্ট পরে গাড়ি চালাচ্ছেন। তবে পুলিশের যুক্তি মেনে নিয়ে তাঁরা সামনের দিন থেকে ফুলপ্যান্ট পরেই গাড়ি চালাবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন। এলাকার কয়েকজন বয়স্ক টোটো চালকের যুক্তি অবশ্য একটু ভিন্ন। তারা জানালেন, দীর্ঘদিনের অভ্যাস লুঙ্গি পরা। এই পোষাকেই আমরা সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। হঠাৎ করে ফুলপ্যান্ট পরে গাড়ি চালানো আমাদের মতো বয়স্কদের পক্ষে একটু অস্বস্তিকর হবে। তবে পুলিশের যুক্তি শুনে সহমত পোষন করেছেন তাঁরা।
হাফপ্যান্ট-লুঙ্গি পরে চালানো যাবে না অটো-টোটো
পুলিশের পোষাকে আপত্তি নিয়ে বিতর্কের মাঝেই অবশ্য চালকদের একাংশ পুলিশের এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গাড়িতে মায়েরা-বোনেরা ওঠেন তাই চালকদের অবশ্যই পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে সচেতন হওয়াটা সামাজিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
সাধারণ যাত্রীরাও পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, গণপরিবহনে চালকেরা পোষাকের বিষয়ে সচেতন হলে মহিলাযাত্রীদের কাছে তা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। সরকারি সিলমোহর না থাকলেও দত্তপুকুর ট্রাফিক পুলিশের এই ‘নৈতিক’ সচেতনতা পাঠ অটো-টোটো চালকেরা কতটা মেনে চলতে আগ্রহী হন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।