নয়া দিল্লি
সাম্প্রতিক কিছু প্রাথমিক পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণায় (ল্যাবরেটরি স্টাডি) ইঙ্গিত মিলেছে যে ড্যান্ডেলিয়ন রুট এক্সট্র্যাক্ট বা সিংহপর্ণী গাছের মূলের নির্যাসে শক্তিশালী ক্যানসারবিরোধী বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। গবেষকদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার কোষের ক্ষেত্রে এই নির্যাস ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ফলাফলগুলো শুধুমাত্র কোষ-ভিত্তিক পরীক্ষার (cell study) উপর নির্ভরশীল। মানুষের শরীরে এই নির্যাস একই রকম কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে এখনও ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।
ড্যান্ডেলিয়ন রুট বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হজমশক্তি উন্নত করা, লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রদাহ কমানোর মতো নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য এটি পরিচিত। তবে চিকিৎসাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রাথমিক গবেষণার ভিত্তিতে ড্যান্ডেলিয়ন রুটকে প্রমাণিত ক্যানসার চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের মতো জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা—যেমন কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও সার্জারি, এখনও সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে গবেষণা ভবিষ্যতের চিকিৎসার নতুন দিশা দেখাতে পারে, তবে তা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
গবেষকরা আশাবাদী যে, আরও উন্নত গবেষণা ও মানবদেহে পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ড্যান্ডেলিয়ন রুট এক্সট্র্যাক্ট ক্যানসার চিকিৎসায় সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে। তবে আপাতত এটি একটি গবেষণাধীন সম্ভাবনা, নিশ্চিত চিকিৎসা নয়, এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।