নয়া দিল্লি
কান্না হোক বা হাসি, মানুষের চোখ যেন সবসময়ই তার নিজের এক ছোট্ট সমুদ্র বয়ে বেড়ায়। কখনও ভিজে থাকে আবেগে, কখনও আবার নিজের সুরক্ষায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সমুদ্র কখনও শুকিয়ে যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কান্নার পরও চোখে থাকে আর্দ্রতা, থাকে অশ্রুর নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ। বিজ্ঞানীরা একে বলেন 'লাইফটাইম টিয়ার সাপ্লাই সিস্টেম', অর্থাৎ আজীবনের অশ্রু উৎপাদন ব্যবস্থা। সাম্প্রতিক গবেষণায় এই বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার রহস্য নিয়ে উঠে এসেছে নতুন তথ্য।
গবেষকদের মতে, চোখের উপরের অংশে থাকা ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি অবিরাম অশ্রু উৎপাদন করে। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মাইক্রোলিটার অশ্রু তৈরি হয়, যা চক্ষুকে তিনভাবে সুরক্ষা দেয়:
লুব্রিকেশন: চোখকে সবসময় ভেজা রাখে যাতে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
পরিষ্কার রাখা: ধুলো, ময়লা বা জীবাণু ঢুকলে অশ্রু তা ধুয়ে ফেলে।
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রতিরক্ষা: অশ্রুর লাইজোজাইম নামের এনজাইম সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, মানুষ যখন আবেগের চাপে কাঁদে, তখন অশ্রুর উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু তবুও অশ্রু কখনও ‘ফুরিয়ে যায়’ না, কারণ চোখের গ্রন্থিগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নতুন তরল তৈরি করতে সক্ষম। শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্যও তাৎক্ষণিকভাবে সামঞ্জস্য করে অশ্রু উৎপাদন বজায় রাখে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধারাবাহিক অশ্রুপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে চোখ শুকিয়ে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে পারে, এমনকি কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রকৃতি চোখকে দিয়েছে এক অনবদ্য “অশ্রু কারখানা”, যা সারাজীবন চোখকে সতেজ ও সুরক্ষিত রাখে।
গবেষকরা বলেন, “মানবদেহের সবচেয়ে নিঃশব্দ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো অশ্রু উৎপাদন। আমরা না চাইলেও, চোখ আমাদের নিরাপত্তার জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করে যায়।”