নয়াদিল্লি
ভারতে বর্তমানে দু’জন নিপাহ ভাইরাসে সক্রিয়ভাবে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গে এই দুই রোগী শনাক্ত হন। আক্রান্ত দু’জনই স্বাস্থ্যকর্মী এবং বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর কড়া নজর রাখছেন।
ভারতে নিপাহ সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এশিয়ার একাধিক দেশ সতর্কতা জারি করেছে। চিন, পাকিস্তান, নেপাল, সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া নজরদারি বাড়িয়েছে। ভারত থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত শ্রমিকদের উপরও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
হংকং বিমানবন্দরে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের কড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড নিপাহ আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা বিমানের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং লট নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের একটি স্বাস্থ্য ঘোষণা পত্র পূরণ করতে হবে। মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক প্রবেশ পয়েন্টগুলিতেও স্ক্রিনিং আরও কঠোর করেছে।
ভারত ও চিনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নেপাল হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। চিন জানিয়েছে, বর্তমানে সেখানে কোনও নিপাহ আক্রান্ত নেই, তবে আমদানিকৃত সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ভারতে নিপাহ নতুন নয়, এর আগেও কেরালায় একাধিক আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল। তবে প্রায় ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে এটি প্রথম নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এই দুই রোগীর সংস্পর্শে আসা মোট ১৯৬ জনকে চিহ্নিত করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের কারও মধ্যে নিপাহের কোনও উপসর্গ পাওয়া যায়নি এবং সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, যা স্বস্তির খবর।
উল্লেখযোগ্য যে, নিপাহ ভাইরাস সাধারণত ফলের বাদুড় ও শূকরের মতো প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি তীব্র জ্বর ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর অসুখের কারণ হতে পারে। ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেও একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ভাইরাস ছড়াতে পারে। বর্তমানে নিপাহের কোনও প্রস্তুত ভ্যাকসিন নেই, যদিও একাধিক ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।