রাজ্যের স্বাস্থ্যশিক্ষায় ঐতিহাসিক সাফল্য, এক লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর উত্তরণে উজ্জ্বল বাংলা
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম এ বছর যেন সাফল্যের নতুন মানচিত্র এঁকে দিয়েছে। বিভিন্ন জয়েন্ট এন্ট্রান্স, নার্সিং এবং প্যারামেডিকেল পরীক্ষায় প্রায় এক লক্ষ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে নতুন সম্ভাবনার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন। ANM, GNM কিংবা প্যারামেডিকেলের বিভিন্ন শাখায় আসন নিশ্চিত করে তাঁরা প্রমাণ করেছেন— নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও মানসিক শক্তির সঠিক সমন্বয়ই স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দেয়। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে।
এই অভূতপূর্ব সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ যে হাতে গড়ে উঠবে, এই তরুণ-তরুণীরা তাঁদেরই প্রতিনিধি। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীদের এই কৃতিত্বের পেছনে যেমন তাঁদের নিজস্ব পরিশ্রম রয়েছে, তেমনই পরিবারের সহায়তা ও শিক্ষকদের নিবিড় পথনির্দেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের অবিচল প্রেরণা আর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নীরব প্রয়াসই তরুণ প্রজন্মকে এগোতে শক্তি যোগাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে— পেশাগত শিক্ষা, কর্মসংস্থানের প্রসার এবং আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকাশ আজ রাজ্যের অগ্রগতির পরস্পর-সম্পর্কিত স্তম্ভ। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী সময়ে নার্সিং, প্যারামেডিকেল ও সহযোগী স্বাস্থ্যকর্মী সম্পর্কিত পেশার গুরুত্ব বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণেই স্বাস্থ্যশিক্ষার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ— সবকিছুতেই জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই পথ ধরেই আত্মবিশ্বাস আর দায়িত্ববোধকে সঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছে বাংলার নবীন প্রজন্ম।
উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁরা সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করতে চান। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যপরিকাঠামো মজবুত করতে নিজেদের ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। এর ফলে শুধু স্বাস্থ্যসেবার মানই যে বৃদ্ধি পাবে তা নয়, প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিকের মতে, এ বছরের ফলাফল রাজ্যের যুবসমাজের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে যেখানে ছাত্রছাত্রীরা ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রচলিত স্নাতক কোর্সের দিকেই বেশি আকৃষ্ট হতেন, সেখানে এখন নার্সিং ও প্যারামেডিকেল কর্মজীবনকে ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। স্থায়ী চাকরির সুযোগ, সামাজিক মর্যাদা এবং মানুষের সেবা করার মানসিকতা— এই তিন শক্তি আজ তরুণদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।
প্রশাসনের যুক্তি, রাজ্যের স্বাস্থ্যপরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করে তুলতে ভবিষ্যতে এই এক লক্ষ শিক্ষার্থীই বড় ভূমিকা নেবেন। শহর থেকে গ্রাম— প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দক্ষ নার্স, ল্যাবটেকনিশিয়ান, প্রযুক্তিবিদ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যপেশাদারের চাহিদা যে দ্রুত বাড়ছে, তা সরকার ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে। তাই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে জোর দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল— বাংলার চিকিৎসাব্যবস্থা আগামী দিনে আরও মানবিক, আধুনিক ও দক্ষ হাতের ওপর নির্ভর করে এগোবে। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে এই বিপুল সংখ্যক নবীন স্বাস্থ্যকর্মী, যাঁদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, গোটা রাজ্যের গর্বও বটে।