শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক, মন্তব্যের নিন্দা কংগ্রেস সাংসদ মানিকম টাগোরের

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 6 d ago
শাহরুখ খানক
শাহরুখ খানক
 
নয়াদিল্লি

বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে মন্তব্য করার ঘটনাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করলেন কংগ্রেস সাংসদ মানিকম টাগোর। তিনি এই মন্তব্যকে ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রের উপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেন এবং আরএসএস-এর বিরুদ্ধে সমাজে বিষ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন।
 
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে মানিকম টাগোর লেখেন, “সুপারস্টার শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা ভারতের বহুত্ববাদের উপর আঘাত। ঘৃণা কখনও জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা হতে পারে না। আরএসএস-কে সমাজে বিষ ছড়ানো বন্ধ করতে হবে।”
 
এই প্রতিক্রিয়া আসে বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমের বিতর্কিত মন্তব্যের পর। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দলে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেন তিনি। সোমের দাবি, এমন একটি দেশের খেলোয়াড়ের পিছনে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে, যে দেশ নাকি ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
 
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে সঙ্গীত সোম অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, নারী ও কন্যাশিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ভারতবিরোধী স্লোগান তোলা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেও শাহরুখ খান সেই দেশের খেলোয়াড়দের উপর অর্থ বিনিয়োগ করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মুস্তাফিজুর রহমানকে কোনওভাবেই ভারতে খেলতে দেওয়া হবে না এবং তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরোতেও পারবেন না।
 
সঙ্গীত সোম আরও বলেন, “এই ধরনের মানুষরা ভারতে খায়, অথচ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রশংসা করে।”
এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন একাধিক ধর্মীয় নেতাও। হিন্দু ধর্মগুরু জগদগুরু স্বামী রামভদ্রাচার্য শাহরুখ খানকে আক্রমণ করে বলেন, অভিনেতা কোনও নায়ক নন এবং তাঁর চরিত্র বিশ্বাসঘাতকের মতো।
 
এছাড়াও ধর্মীয় নেতা দেবকীনন্দন ঠাকুর বাংলাদেশের পরিস্থিতির উল্লেখ করে কেকেআর দলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার নেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই দেশের কোনও খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া অমানবিক সিদ্ধান্ত।
 
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে বিরোধীদের তরফে এই মন্তব্যকে ঘৃণার রাজনীতি বলে আক্রমণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদলের কিছু নেতার বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।