দেবকিশোর চক্রবর্তী
ঝলমলে আলো, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, তারকাখচিত পার্টি—সবই যেন হাতের মুঠোয়। তবুও সেই সবকিছু থেকে দূরে, মাটির কাছাকাছি থাকতেই ভালোবাসেন অরিজিৎ সিং। দেশের এক নম্বর প্লেব্যাক সিঙ্গার হয়েও যে সহজ সরল জীবনযাপন বেছে নিয়েছেন, তা যেন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে দোলের দিনে।
বলিউডে হোলি মানেই রঙিন পার্টি, সেলিব্রিটি ভিড়, নাচ-গান আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মুহূর্ত। কিন্তু অরিজিতের কাছে এই উৎসবের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ আলাদা। তার কাছে ‘হোলি’ নয়, ‘দোল’—যার মধ্যে আছে শৈশবের স্মৃতি, আপনজনের স্পর্শ আর নিজের শিকড়ের গন্ধ।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও দোলের দিনে দেখা গেল তাকে নিজের শহর জিয়াগঞ্জ-এর রাস্তায়। কোনও নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী নয়, নেই তারকাসুলভ দূরত্ব—একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই রঙ খেলায় মেতে উঠলেন তিনি। চারপাশে পরিচিত মুখ, পাড়ার মানুষ, ছোটবেলার বন্ধু—এইসবের মাঝেই যেন নিজের সত্যিকারের পরিচয় খুঁজে পান অরিজিৎ।
রঙ মাখা মুখ, হালকা হাসি আর অনাবিল আনন্দ—এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়, খ্যাতি যত বড়ই হোক, মানুষ শেষ পর্যন্ত নিজের শিকড়েই ফিরে যেতে চায়। বলিউডের ঝাঁ চকচকে পার্টি হয়তো তাকে ডাক দেয়, কিন্তু সেই ডাকে সাড়া না দিয়ে তিনি বেছে নেন নিজের শহরের সরল আনন্দ।
দোলের দিনে জিয়াগঞ্জ যেন অন্য রূপ নেয়। রাস্তায় রঙের আবির, ঢাকের আওয়াজ, আর সেই ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎ দেখা মেলে অরিজিতের। কোনও তারকা দূরত্ব নয়—বরং তিনি হয়ে ওঠেন ‘আমাদের বাড়ির ছেলে’। কেউ এগিয়ে এসে রঙ মাখিয়ে দেয়, কেউ বা ছবি তোলে, আবার কেউ শুধু দূর থেকে তাকিয়ে থাকে—এই সহজ, নিরাভরণ মুহূর্তগুলোই যেন তার আসল প্রাপ্তি।
এ যেন এক অন্য বার্তা—সাফল্য মানেই সবকিছু ভুলে যাওয়া নয়। বরং যত বড় হওয়া যায়, ততই নিজের মাটির সঙ্গে সংযোগটা আরও গভীর করা জরুরি। অরিজিতের এই জীবনদর্শন আজকের প্রজন্মের কাছেও এক অনুপ্রেরণা।
তার গান যেমন কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, তেমনই তার এই সহজ জীবনযাপন তাকে আরও কাছের মানুষ করে তোলে। দোলের রঙে রাঙা এই মুহূর্তগুলো শুধুই উৎসব নয়, এক ধরনের আবেগ—যেখানে একজন বিশ্বখ্যাত শিল্পী ফিরে যান তার নিজের শিকড়ে, নিজের মানুষদের কাছে।
শেষ পর্যন্ত, হয়তো এটাই সত্যি—মঞ্চ যত বড়ই হোক, হৃদয়ের ঠিকানা কিন্তু সেই ছোট্ট শহরেই থেকে যায়। আর সেই ঠিকানার নাম জিয়াগঞ্জ।