প্রায় ২ কোটি টাকা মিলল স্কুলের ভেতরে! এত নগদ টাকা পুলিশের গুনতে সারারাত লাগলো, শেষে আসল ‘রহস্য ফাঁস’ করলেন প্রিন্সিপ্যাল
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
স্কুল থেকে পাওয়া গেল প্রায় ২ কোটি টাকা। পুলিসের সামনে রাতভর চলল মেশিন দিয়ে টাকা গোনার কাজ। খবর সামানে আসতেই স্থানীয় বলছেন এ তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় যেন এক একটি মিনি ব্যাংক। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার নামী বেসরকারি স্কুল হার্নেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ভল্ট থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। শিক্ষার জায়গায় এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কোথা থেকে এল, তা নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর মন্তব্য শোনা যাচ্ছে এলাকাজুড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল। স্কুল সূত্রে খবর, হার্নেট হাইস্কুলের অধ্যক্ষের সঙ্গে হিসাবরক্ষকের টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে তীব্র বিবাদ শুরু হয়। বচসা চরমে পৌঁছতেই খবর চলে যায় বীজপুর থানায়। জানা গেছে, পুলিশ স্কুলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতেই যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ল। পুলিশ সূত্রের খবর, স্কুলের একটি গোপন ভল্ট খুলতেই তদন্তকারীদের চোখ আটকে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্যাকেট প্যাকেট ভর্তি করা নগদ টাকা। উদ্ধার করা টাকার পরিমান জানতে গভীর রাতে নিয়ে আসা হয় টাকা গোনার মেশিন। রাতভর খটখট শব্দে মেশিন চলার পর জানা যায়, ভল্টে জমা ছিল প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল তো বটেই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। কারণ, এই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে রয়েছেন কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারী। যিনি আবার বীজপুরের দাপুটে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর ভাই। সেই সূত্র ধরে এই বিরাট অঙ্কের নগদ টাকার সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতি বা কোনো বড়সড় আর্থিক তছরুপের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন কিন্তু এবার উঠতে শুরু করেছে।
রাতভর চলল টাকা গোনা
স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল বিকাশ চন্দ্র পাল এই টাকা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। ওই টাকা কিভাবে ওখানে এল তা তিনি জানেন না। তবে উদ্ধার করা টাকা যে অবৈধ তা তিনি স্পষ্ট জানালেন।টাকা উদ্ধারের খবর ছড়াতেই স্কুলের সামনে ভিড় জমান ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এক অভিভাবক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এটা বিদ্যার মন্দির নাকি অপরাধের আস্তানা? সাধারণ মানুষের দাবি, এই টাকার উৎস কী তা খুঁজে বের করা হোক। এর পেছনে কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িয়ে আছে কিনা তা অবিলম্বে তদন্ত করে সামনে আনুক পুলিশ।
আপাতত ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্কুলের হিসাবরক্ষককে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বীজপুর থানার পুলিশ। তবে স্কুল থেকে কাড়ি কাড়ি নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে।