শিলং রাজভবনে প্রকাশিত মালবিকার নতুন গ্রন্থ‘নেতাজি ভিজিটেড রাজভবন (লোক ভবন) শিলং’: ইতিহাসের অজানা অধ্যায়ের উন্মোচন

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
শিলং রাজভবনে প্রকাশিত মালবিকার  নতুন গ্রন্থ‘নেতাজি ভিজিটেড রাজভবন (লোক ভবন) শিলং’: ইতিহাসের অজানা অধ্যায়ের উন্মোচন
শিলং রাজভবনে প্রকাশিত মালবিকার নতুন গ্রন্থ‘নেতাজি ভিজিটেড রাজভবন (লোক ভবন) শিলং’: ইতিহাসের অজানা অধ্যায়ের উন্মোচন
 
শিলং:

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ অথচ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত অধ্যায়কে সামনে এনে প্রকাশিত হলো বিশিষ্ট গবেষক-লেখিকা মালবিকা বিশারদ এর নতুন গ্রন্থ "Netaji Visited Raj Bhavan (Lok Bhavan) Shillong"। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শিলংয়ের ঐতিহাসিক লোক ভবন (রাজভবন)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির প্রকাশ করেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল  সি. এইচ. বিজয়শঙ্কর।
 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং নেতাজি অনুরাগীরা। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এখনও বহু অজানা তথ্য রয়ে গেছে। মালবিকা বিশারদ এর এই গবেষণাধর্মী গ্রন্থ সেই শূন্যস্থান পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।

নেতাজির শিলং সফরের ইতিহাস,বইটিতে লেখিকা ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি নথি, সমসাময়িক সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্মৃতিচারণের ভিত্তিতে তুলে ধরেছেন নেতাজির শিলং সফরের নানা দিক। জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে স্বাস্থ্যগত কারণে এবং রাজনৈতিক আলোচনার সূত্রে নেতাজি একাধিকবার শিলং সফর করেছিলেন। সেই সময়কার রাজভবন, যা বর্তমানে "লোক ভবন" নামে পরিচিত, তার সঙ্গে নেতাজির যোগাযোগ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

গবেষকদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে বোঝার ক্ষেত্রে নেতাজির এই সফরগুলির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা আন্দোলনের বৃহত্তর কৌশল নির্ধারণে পাহাড়ি অঞ্চলগুলির গুরুত্ব নিয়ে নেতাজির দৃষ্টিভঙ্গি এই বইয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে আলোচনায় আসতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেঘালয়ের রাজ্যপাল বলেন,"নেতাজি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি জাতীয় চেতনার প্রতীক। তাঁর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে এই ধরনের গবেষণামূলক কাজ অত্যন্ত মূল্যবান।"তিনি আরও বলেন, ইতিহাসকে জীবন্ত রাখতে দলিলভিত্তিক গবেষণা অপরিহার্য এবং মালবিকা বিশ্বাসরদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে,মালবিকা বিশারদ জানান, দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান, বিভিন্ন আর্কাইভ ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় ইতিহাসবিদদের সহযোগিতায় বইটি প্রস্তুত হয়েছে।তিনি বলেন,"নেতাজির জীবন নিয়ে বহু আলোচনা হলেও শিলংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম কাজ হয়েছে। আমি সেই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে নেতাজিকে নিয়ে নতুন নতুন গবেষণা সামনে আসছে। এই গ্রন্থ সেই ধারার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। উত্তর-পূর্ব ভারতের ইতিহাস, ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামো এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের আন্তঃসম্পর্ক বুঝতে বইটি গবেষক ও পাঠকদের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও সংগ্রামের অজানা অধ্যায়কে নতুন আলোয় তুলে ধরা এই গ্রন্থ প্রকাশ শুধু একটি সাহিত্যিক ঘটনা নয়, বরং জাতীয় ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



শেহতীয়া খবৰ