আর্শালা খান / নয়া দিল্লি
কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব, এই কথারই প্রমাণ দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের নাসিকের এক তরুণ। মাত্র ১৫ বছর বয়সী হাফিজ সৈয়দ জায়েদ সাদিক JEE Main 2026-এ ৯৯.৯২৭ পার্সেন্টাইল অর্জন করে শহরের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। তাঁর এই সাফল্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি তাঁর ধর্মীয় শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন এবং অতি কম বয়সেই সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করে হাফিজ হয়েছেন।
জায়েদ সাদিকের এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন মেইনস-এর মতো কঠিন পরীক্ষায় তিনি অসাধারণ ফলাফল করেছেন। সেশন ২-এ তাঁর ৯৯.৯২৭ পার্সেন্টাইল তাঁকে নাসিকের টপার করেছে। এর আগেও তিনি দুই সেশনেই ৯৯ পার্সেন্টাইলের ওপরে নম্বর পেয়েছিলেন। তাঁর এই সাফল্য তাঁর ধারাবাহিক পরিশ্রম ও দৃঢ় শৃঙ্খলার ফল।
বর্তমানে জায়েদ সাদিক অশোকা কলেজের ছাত্র এবং তিনি আগামীর JEE Advanced-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর স্বপ্ন ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (IIT)-এ ভর্তি হওয়া। সেই লক্ষ্যেই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করে চলেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মানসিক একাগ্রতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন।
জায়েদ সাদিকের বিশেষত্ব হলো, তিনি খুব কম বয়সেই কোরআন ‘হিফজ’ (মুখস্থ) করেছেন। ইসলাম ধর্মে যিনি সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেন, তাঁকে “হাফিজ” বলা হয়। তিনি তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা মাদ্রাসা থেকে লাভ করেছিলেন। পরে স্কুলের পড়াশোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তিনি বাড়িতে তাঁর মা এবং এক শিক্ষকের সহায়তায় কোরআন মুখস্থ করার কাজ সম্পূর্ণ করেন। এই যাত্রা তাঁর জন্য ছিল শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের এক বড় পরীক্ষা।
পড়াশোনায়ও জায়েদ সাদিক শুরু থেকেই মেধাবী। তিনি দশম শ্রেণিতে ৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। এতে স্পষ্ট যে তিনি সব ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক দিশা ও পরিশ্রম থাকলে একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
তাঁর এই কৃতিত্বে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর পিতা সৈয়দ সাদিক এবং মা সৈয়দ জৌকিয়া প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে সমর্থন করেছেন। পরিবার তাঁকে পড়াশোনা ও ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। জায়েদের পরিবার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাদু সৈয়দ সাত্তার আলি পৌরসভার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
প্রতীকী ছবি
জায়েদ সাদিকের শিক্ষকরাও তাঁর পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন। তাঁর এক শিক্ষক বলেন, জায়েদ প্রমাণ করেছে যে সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে পারে। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট এবং তিনি সেই লক্ষ্যের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত ছিলেন।
জায়েদ সাদিকের এই সাফল্য নানা দিক থেকে অনুপ্রেরণাদায়ক। এটি সেই ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক বার্তা, যারা মানসিক চাপে নিজেদের স্বপ্ন থেকে সরে যায়। তাঁর গল্প বলে যে পরিশ্রম, ভারসাম্য ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো কঠিন পথকেও সহজ করা যায়।
এখন সবার নজর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। JEE Advanced-এ তাঁর পারফরম্যান্স কেমন হবে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এটা নিশ্চিত যে নাসিকের এই তরুণ ছাত্র তাঁর পরিশ্রমের মাধ্যমে এমন এক পরিচয় তৈরি করেছেন, যা আগামী দিনে বহু তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।