কোনো টিউটর ছাড়াই আইএসসি-তে ১০০-তে ১০০ পেয়ে রাজ্যে যুগ্মভাবে সেরা বাংলার ছেলে অনান রামি

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
 অনান রামি
অনান রামি
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

সর্বভারতীয় আইএসসি পরীক্ষায় ১০০% নম্বর পেয়ে রাজ্যে যুগ্মভাবে সেরা বাংলার ছাত্র অনান রামি। যুগ্মভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। কলকাতার দিল্লি পাবলিক স্কুল মেগাসিটির মেধাবী ছাত্র হিসেবে অনান রামি রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করলেন। রেজাল্টে দেখা যায়, অনান ইংরেজি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান এই চারটি বিষয়ে ১০০-র মধ্যে ১০০ নম্বর পেয়েছে। শুধুমাত্র অঙ্কে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৬। নিয়ম অনুযায়ী, সেরা চারটি বিষয়ের নম্বর যোগ করায় তার মোট প্রাপ্ত নম্বর দাঁড়িয়েছে শতভাগ। অনানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের আইসিএসই পরীক্ষায় ৯৮.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে সারা দেশে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। অনান রামি প্রমাণ করে দিলেন, সঠিক লক্ষ্য আর অধ্যাবসায় থাকলে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। 
 
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কোচিং সেন্টার বা একাধিক গৃহশিক্ষক ছাড়া ভালো ফল করা অসম্ভব বলে মনে করেন অনেকেই। এবার অনান রামি সেইসব মানুষদের ভুল প্রমাণ করলেন। এই দুর্ধর্ষ রেজাল্ট করার পেছেনে কোনও পেশাদার কোচিং বা গৃহশিক্ষকের সাহায্য নেয়নি অনান। তিনি বলেন,' পড়াশুনার জন্য আমার কোনও আলাদা টিউশন ছিল না। বাবা-মায়ের কাছেই মূলত পড়াশোনা করেই আমার এগিয়ে যাওয়া। এছাড়া আমার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকেও প্রচুর সাহায্য পেয়েছি।' অনানের বাবা প্রফেসর সফিউল আলম আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক। আর মা বিলকিসআরা সুলতানা জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকা। বাবা-মা দুজনেই শিক্ষাজগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ সে ঘর থেকেই পেয়েছে। তাই বাইরের টিউশনের বদলে বাড়ির শিক্ষার পরিবেশকেই সে বেছে নিয়েছেন সাফল্যের পথে হেঁটে যাওয়ার জন্য।
 
অনান জানিয়েছেন, তাঁর এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম। দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করাই ছিল তার রুটিন। তবে তিনি শুধুমাত্র পাঠ্য বইয়ের পাতায় আটকে রাখেননি নিজেকে। পড়াশোনার ফাঁকে ছোট অবসর হিসেবে খেলাধুলা করা, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বা গল্পের বই পড়ার মতো শখগুলোই তাকে মানসিকভাবে সতেজ রেখেছে।
 
ভবিষ্যতে অনান চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চান। তাঁর এই অভুতপূর্ব সাফল্যে গর্বিত তার পরিবার থেকে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বাবার কর্মসূত্রে অনানের পরিবার সকলেই এখন থাকেন নিউটাউন এলাকাতেই। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেন, অনান রামি আসলে খুব মেধাবী ছাত্র। ছোট থেকেই দেখেছি পড়াশোনার প্রতি তার অগাধ আগ্রহ। আর তাই তো তার এই সাফল্য। আগামী দিনে আরও সাফল্য অর্জন করুক এটাই কামনা করি।