শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
৩০ এপ্রিল প্রকাশিত হল কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশনস (CISCE)-এর আইসিএসই (দশম) ও আইএসসি (দ্বাদশ) পরীক্ষার ফলাফল। এ বছরও ৯৯ শতাংশের বেশি পাশের হার বজায় রেখে নজর কেড়েছে দেশের ছাত্রছাত্রীরা। তবে সামগ্রিক সাফল্যের এই ছবির মধ্যেই বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু কৃতি পড়ুয়া, যাঁদের অসাধারণ ফলাফল শিক্ষাক্ষেত্রে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
দ্বাদশ শ্রেণির আইএসসি পরীক্ষায় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (AMU) সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের পড়ুয়ারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তফহিম নাজির ৪৮৮ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। হাদি আহমদ ৪৮৬ নম্বর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি আলভিনা আনসারি, হামনাহ ইসলাম এবং সানা খান প্রত্যেকে ৪৮৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে পঞ্চম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানের গৌরব আরও বাড়িয়েছেন। কেরলের হোলি অ্যাঞ্জেলস’ আইএসসি স্কুলের জাইরা নিশাদ বাণিজ্য বিভাগে ৯২.৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
অন্যদিকে, দশম শ্রেণির আইসিএসই ফলাফলেও মুসলিম পড়ুয়াদের উজ্জ্বল উপস্থিতি চোখে পড়েছে। তামরিন জারা ৯৯.৪ শতাংশ, সাবিকি ইবন খান ৯৯.৬ শতাংশ, এরফান আলি ৯৮.২ শতাংশ এবং সুহানা পারভিন ৯৬.৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রমাণ করেছেন কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তাঁরা দেশের সেরাদের তালিকায় জায়গা করে নিতে সক্ষম।
এ বছরের ফলাফলে আইসিএসই-তে পাশের হার ৯৯.১৮ শতাংশ এবং আইএসসি-তে ৯৯.১৩ শতাংশ। দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীদের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। পশ্চিমাঞ্চল আইসিএসই-তে এবং দক্ষিণাঞ্চল আইএসসি-তে সর্বোচ্চ ফল করেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং সমাজের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। নানা সামাজিক ও আর্থিক বাধা অতিক্রম করে এই সাফল্য প্রমাণ করছে, সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরাই জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
২০২৬ সালের CISCE ফলাফল তাই শুধু পরিসংখ্যান নয়, বহু পরিবার ও সমাজের কাছে এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে শিক্ষাই হয়ে উঠছে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।