সিআইএসসিই-তে কলকাতার কৃতীদের নজরকাড়া সাফল্য, পূর্ণমানের দৌড়ে এগিয়ে অনুষ্কা-ইলিনা, উজ্জ্বল অর্কদীপ
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
সিআইএসসিই-র ২০২৬ সালের আইসিএসই (দশম) ও আইএসসি (দ্বাদশ) পরীক্ষার ফলপ্রকাশে কলকাতার পড়ুয়ারা আবারও প্রমাণ করল, মেধা ও লক্ষ্য একসঙ্গে থাকলে সাফল্য ধরা দিতেই পারে। পূর্ণমান কিংবা প্রায় পূর্ণ নম্বর পেয়ে শহরের একাধিক ছাত্রছাত্রী নজর কেড়েছে শুধু ফলাফলে নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও বহুমুখী আগ্রহেও।
পানিহাটির সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের ছাত্রী অনুষ্কা ঘোষ এবারের আইএসসি পরীক্ষায় কার্যত নিখুঁত সাফল্যের নজির গড়েছে। ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং কম্পিউটার সায়েন্স— প্রতিটি বিষয়েই ১০০-এ ১০০ পেয়ে মোট ৫০০-এ ৫০০ নম্বর অর্জন করেছে সে। অনুষ্কার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির পরামর্শই তাকে এগিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অনুষ্কার আর এক বড় পরিচয় তার সাহিত্যপ্রেম। কবিতা ও গল্প লেখাই তার সবচেয়ে প্রিয়।
কলকাতার আর এক কৃতী ইলিনা রাজকুমার উদানি, আনন্দপুরের দি হেরিটেজ স্কুলের ছাত্রী। ইংরেজি সাহিত্য ও সৃজনশীল লেখালিখির প্রতি গভীর অনুরাগী ইলিনা দ্বাদশ শ্রেণিতে ইংরেজি, ঐচ্ছিক ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান ও গণজ্ঞাপনে পূর্ণমান পেয়ে ৪০০-এ ৪০০ অর্জন করেছে। ছোট থেকেই সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী ইলিনা ইতিমধ্যেই নিজের কবিতার বই প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষকতা ও গবেষণার জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সে। তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় যুক্ত পরিবারে বড় হলেও সাহিত্যের পথকেই নিজের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে ইলিনা।
দশম শ্রেণিতেও কলকাতার পড়ুয়াদের সাফল্য সমান উজ্জ্বল। রামমোহন মিশন হাইস্কুলের ছাত্র অর্কদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০০-র মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে শহরের গর্ব বাড়িয়েছে। বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং ইতিহাস-সিভিকস-ভূগোলে পূর্ণমান পেলেও ইংরেজিতে এক নম্বর কমে থেমেছে তার স্কোর। পদার্থবিদ্যা ও গণিতে আগ্রহী অর্কদীপ ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেও সে সমান স্বচ্ছন্দ— এই ভারসাম্যই তার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
একই স্কুলের আর এক ছাত্র অভিনব দাসও উজ্জ্বল ফল করেছে। গণিত ও কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে পূর্ণমান, ইংরেজিতে ৯৯ এবং বিজ্ঞানে ৯৮ পেয়ে সে-ও ভবিষ্যতে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন নিয়েই এগোতে চায়।
এবারের ফলাফলে স্পষ্ট, কলকাতার কৃতীরা শুধু নম্বরের নিরিখে নয়, নিজেদের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও আলাদা পরিচয় তৈরি করছে। কেউ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে, কেউ সাহিত্য ও গবেষণায়— প্রত্যেকেই নিজের স্বপ্নকে সাফল্যের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। সিআইএসসিই-র মঞ্চে এই সাফল্য তাই শুধুই ফল নয়, আগামী দিনের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত।