মাদ্রাসা শিক্ষায় বড়সড় ঐক্য! দাবি আদায়ে এক ছাতার তলায় এবার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা, আত্মপ্রকাশ ‘মাদ্রাসা শিক্ষা যৌথ মঞ্চ’-এর
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পুনর্বহাল থেকে সিলেবাসের সমস্যা, আনএডেড মাদ্রাসার অস্তিত্ব রক্ষা সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের কাছে। নিজেদের দাবিগুলোকে তুলে ধরে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি এবার সম্মিলিতভাবে পথে নামতে চান। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে কলকাতায় আত্মপ্রকাশ করল ‘মাদ্রাসা শিক্ষা যৌথ মঞ্চ’। মাদ্রাসা শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলাই এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য বলে জানালেন উদ্যোক্তারা। আত্মপ্রকাশের পরই সরকারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তাঁরা।
রবিবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভা ভবনে রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকের মাধ্যমে এই যৌথ মঞ্চের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হল। বৈঠকে মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নানা সমস্যাগুলো আলোনায় উঠে আসে। আর সেই অলোচনা প্রসঙ্গে আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে রূপরেখা তৈরি হয়। পাশাপাশি সংগঠনের নামকরণ ও সাংগঠনিক দায়িত্বও বণ্টন করা হয়। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, আলাদা আলাদা সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানোর পরিবর্তে এবার সম্মিলিতভাবে সমস্যাগুলি সরকারের সামনে তুলে ধরাই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের মতামতের নিরিখে যৌথ মঞ্চের কো-অর্ডিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। চারটি সংগঠনের প্রতিনিধিকে কনভেনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতির সভাপতি শেখ গোলাম মঈনুদ্দিন, মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সুফিয়ান পাইক, মাদ্রাসা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান এবং সারা বাংলা মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (আনএডেড)-এর সভাপতি মো. সামসুল আরেফিন। অন্যান্য সংগঠনকেও এই মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ চলছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল, আত্মপ্রকাশের পরপরই যৌথ মঞ্চের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পুনর্বহালের দাবিতে সরকারের কাছে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুজোর ছুটির পর সরকারি দফতর খুললে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সংগঠনের তরফে একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দেবে। সংগঠকদের বক্তব্য, কমিশনের পুনর্বহালের দাবি আদায়ে সরকারের কাছে ফের আবেদন জানানো হবে। প্রয়োজন পড়লে তাঁরা আইনি পথেও এগোনোর কথা জানিয়েছেন। বৈঠকের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান জানান, “মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর বিভিন্নভাবে আঘাত আসছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও মাদ্রাসা সংগঠনগুলির এক ছাতার নিচে আসা প্রয়োজন।” তিনি মনে করেন, মাদ্রাসা শিক্ষার সমস্যাগুলিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই।
সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, যৌথ মঞ্চের ভাবনা শুধুমাত্র মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পুনর্বহালের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়। মাদ্রাসার সিলেবাস সংক্রান্ত বিষয়, আনএডেড মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রগুলির অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নও তাদের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সুফিয়ান পাইক জানান, বিচ্ছিন্নভাবে আবেদন-নিবেদনের পরিবর্তে সব সংগঠনকে একত্রিত করে সমস্যাগুলি সরকারের নজরে আনাই এই মঞ্চের প্রধান উদ্দেশ্য হবে। তাঁর বক্তব্য, মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে আনএডেড প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎ, সব বিষয়েই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফলপ্রসূ করতে হবে।
বৈঠকে মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতি, মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন, মাদ্রাসা কল্যাণ সমিতি এবং সারা বাংলা মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (আনএডেড)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম এবং এমএসকে মাদ্রাসা সংগঠনগুলির সঙ্গেও যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আতিয়ার রহমান। মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনের পৃথক পৃথক উদ্যোগের পরিবর্তে সম্মিলিতভাবে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই যৌথ মঞ্চ গঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। আসলে সমন্বিত পদক্ষেপেই গুরুত্ব দিতে চাইছে এই সংগঠন। ঐক্যের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষার সমস্যার সমাধানে কতটা গতি আনে, সেদিকেই এবার নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।