তিন হাজার সাতশো বছরের বাঁশের জীবাশ্মে নতুন তথ্য, তুষার যুগেও টিকে ছিল ‘বাঁশ’, মণিপুরে মিলল বিবর্তনের বিরল প্রমাণ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 4 h ago
মণিপুরের ইম্ফল উপত্যকার চিরাং নদীর তীরে আনুমানিক ৩,৭০০ বছর পুরনো  বাঁশের জীবাশ্ম
মণিপুরের ইম্ফল উপত্যকার চিরাং নদীর তীরে আনুমানিক ৩,৭০০ বছর পুরনো বাঁশের জীবাশ্ম
 
ইম্ফল

টিকে থাকার একমাত্র পথ বিবর্তন, ডারউইনের এই মৌলিক তত্ত্ব ফের নতুন করে আলোচিত হচ্ছে মণিপুরে পাওয়া বাঁশের জীবাশ্ম ঘিরে। যুগের পর যুগ প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকার ক্ষমতার দৌলতেই কিছু প্রজাতি আজও পৃথিবীতে জীবিত; আবার অগণিত প্রাণী–উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে বিলুপ্তির অতলে। এই বিবর্তনের জয়ধ্বনি যেন লিখে রেখেছে বাঁশ, যে প্রাচীনকাল থেকেই পরিবেশের বৈরিতাকে জয় করে আগলে রেখেছে নিজের অস্তিত্ব।
 
সম্প্রতি মণিপুরের ইম্ফল উপত্যকার চিরাং নদীর তীরে অভিযান চালিয়ে গবেষকদের হাতে আসে এক অমূল্য আবিষ্কার, বাঁশের জীবাশ্ম, যা বয়সের হিসেবে আনুমানিক ৩,৭০০ বছর পুরনো। বীরবল সাহনি ইনস্টিটিউট অফ পেলিওসায়েন্সেস-এর গবেষকরা নমুনাগুলি পরীক্ষা করে দেখেছেন, এই বাঁশ ছিল তুষার যুগেও জীবিত। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বহু অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হলেও, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মায়ানমারজুড়ে আর্দ্র আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি বাঁশকে বিবর্তনে এগিয়ে রাখে, এবং এখানেই টিকে যায় তার বংশ।
 
প্রত্ন-বোটানির গবেষকদের মতে, বাঁশের জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত বিরল। তাই চিরাং নদীর তীরে পাওয়া এই পলিসমৃদ্ধ জীবাশ্মকে তাঁরা তুলনা করছেন হাতে এসে ধরা পড়া ইতিহাসের সঙ্গেই। পরীক্ষায় দেখা গেছে, নমুনাটি ‘চিমোনোবাম্বুসা’ প্রজাতির, যা থেকে বিবর্তনের ধারায় জন্ম নিয়েছে আধুনিক ‘বাম্বুসা বাম্বোস’। অর্থাৎ এই জীবাশ্ম গবেষণা বাঁশের বিবর্তনপ্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখতে চলেছে।
 
বিশেষজ্ঞদের দাবি, যখন এই প্রাচীন বাঁশ পৃথিবীতে বেঁচে ছিল, তখন ছিল তুষার যুগ, হিমশীতল ও শুষ্ক পরিবেশে তৃণভোজী প্রাণীদের প্রাকৃতিক আধিপত্যের সময়। অথচ সেই পরিস্থিতিতেও বাঁশ বেঁচে ছিল, যা গবেষণায় নতুন প্রশ্ন তুলছে, প্রাচীন পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের সম্পর্ক কেমন ছিল? ক্ষুধার শিকার হওয়া এড়িয়ে বাঁশ কীভাবে টিকে গেল, সেই রহস্য উদঘাটন হলে তুষার যুগের পরিবেশগত চরিত্রও আরও স্পষ্ট হবে।
 
বিশ্বখ্যাত ‘জার্নাল রিভিউ অফ পেলিওবোটানি অ্যান্ড পেলিনোলজি’, তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ–এর জেরেই বাঁশের ক্রমাগত বিবর্তন ঘটে। আর মণিপুর থেকে উদ্ধার হওয়া জীবাশ্ম সেই প্রাকৃতিক অভিযোজনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে বলেই নিশ্চিত বিশেষজ্ঞ মহল।
 
প্রকৃতি বদলায়, সময়ও বদলায়, কিন্তু বিবর্তনই শেষপর্যন্ত বাঁচিয়ে দেয় সেই সত্তাকে, যে বদলের সঙ্গে লড়তে পারে। মণিপুরের বাঁশের জীবাশ্ম তারই নীরব জীবন্ত প্রমাণ।