শতানন্দ ভট্টাচার্য
এবারের দুর্গো পুজোয় দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার বারোয়ারী পুজো প্যান্ডেলগুলোতে জুবিন গার্গের গান বাজানোর আহ্বান সাংবাদিকদের। বরাক উপত্যকার শ্রীভুমি জেলার বদরপুরের সাংবাদিকরা সরাসরি এদাবি জানিয়ে বলেছেন প্রয়াত শিল্পীর প্রতি মানুষের থাকা আবেগ আর ভালবাসা প্রকাশের এটাই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ পন্থা এবং সময়।
অসমবাসী মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন, অসমের সঙ্গীত জগতের অবিস্মরণীয় প্রতিভাধর জুবিন গার্গের প্রয়াণে বদরপুরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল বদরপুর প্রেস ক্লাব এবং সভাতেই তারা এই দাবি উত্থাপন করেন। অসংখ্য গুণমুগ্ধের উপস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যার এই অনুষ্ঠানে জুবিন গর্গকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুবিন প্রেমীরা বলেন, জুবিনের প্রয়াণ শুধুমাত্র একজন শিল্পীর বিদায় নয়, এটি ছিল এক আবেগ, এক যুগের অবসান। বিশেষ করে বরাক উপত্যকার মানুষের সঙ্গে জুবিনের সম্পর্ক ছিল অনেকটা ব্যক্তিগত। কারণ, জুবিন তাঁর শৈশবের সাত থেকে আট বছর কাটিয়েছেন বর্তমান শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ) শহরে। এখানকার মাটি, ভাষা, মানুষ সবকিছুর সঙ্গেই তাঁর ছিল এক গভীর সেতুবন্ধন। বাংলা ভাষাতেও তিনি অনায়াসে কথা বলতেন, যা তাঁকে বরাকের মানুষের আরও কাছের করে তোলে। এবারের দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন মণ্ডপে জুবিন গর্গের গান বাজানোর জন্য এই শোকসভা থেকে আর্জি জানানো হয়।
জনজোয়ারে প্রয়াত জুবিনের নশ্বর দেহ
বদরপুর প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি সাইদুল ইসলাম এবং সাজিদ মুরাদের পরিচালনায় আয়োজিত শোকসভায় জুবিন গার্গের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করে এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আহমেদ সাহিল, এনাম উদ্দিন, আহাদ উদ্দিন তালুকদার, যীশু নাথ, সেলিম আহমদ, তাজ উদ্দিন, পিন্টু শুক্লবৈদ্য, মনসুর আলম প্রমুখ এদিন জুবিনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, শিল্পীর মৃত্যু নেই। দৈহিক মৃত্যু হলেও কিশোর কুমার, মহম্মদ রফি, লতা মঙ্গেশকরের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা নিজেদের গানের মাধ্যমে আজও অমর। জুবিন গার্গও অসম তথা বিশ্ববাসীর কাছে এভাবে অমর হয়ে থাকবেন। বিশ্বের ৪০টি বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন যিনি, তিনি তো কিছুতেই হারিয়ে যাওয়ার নয়। এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন মণ্ডপে যে সব গান বাজবে, এর মধ্যে জুবিন গার্গের গানকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য বদরপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আর্জি জানানো হয়। উল্লেখ্য, বরাক উপত্যকায় দুর্গা পুজাতে বাংলা গানকে প্রাধান্য দিয়ে আসার রীতিকে এবার বাদ দিয়ে জুবিনের গানে একতার জয় গান গাইবে উপত্যকার দুর্গা পুজা কমিটি গুলো ।
ক্লাবের পক্ষ থেকে তাজ উদ্দিন বলেন শুধু গানের মাধ্যমেই শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানানো যায় তাই সবাই যেন শিল্পীকে পুজোর দিনগুলোতে প্যান্ডেলে তার গান বাজিয়ে তাঁকে সম্মান জানায়।