মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ধ্বংস ইরানের যুদ্ধজাহাজ; ১৪৮ জনের মৃত্যু
কলম্বো
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বুধবার বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। বিশাখাপত্তনম থেকে ফেরার পথে ভারতের কাছাকাছি, শ্রীলঙ্কার জলসীমার নিকটে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলের কাছে- ইরানের যুদ্ধজাহাজ, অর্থাৎ ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডো হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।
ভারত মহাসাগরে ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজটিতে থাকা ১৮০ জন নৌসেনা সদস্যের মধ্যে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী মাত্র ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আহতদের দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর গলে–এর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মেডিস শ্রেণির এই যুদ্ধজাহাজটি ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত নৌ-অনুশীলনে অংশ নিয়েছিল। বঙ্গোপসাগরে সফলভাবে অনুশীলন শেষ করে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময়ই মার্কিন নৌবাহিনীর হামলার শিকার হয় জাহাজটি।
এই ঘটনাকে ঘিরে শ্রীলঙ্কার সংসদে বিবৃতি দিতে গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ জানান, জাহাজটি যদিও শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক জলসীমায় ডুবে যায়, তবু শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে অন্তত ৩২ জন নৌসেনাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, জাহাজটি ধ্বংস হওয়ার সময় ওই এলাকায় কোনো যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে ইরানের এই যুদ্ধজাহাজটি যে মার্কিন সাবমেরিনের আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে, তা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলভাগে টর্পেডো হামলা চালিয়েই ইরানের এই যুদ্ধজাহাজটি ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তা বিবিসি–কে জানান, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে অন্তত ৮০টি ভাসমান মৃতদেহ দেখতে পেয়েছে।