রুশ তেল আমদানি কমায় ভারতের ওপর আরোপিত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের: স্কট বেসেন্ট

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 10 d ago
স্কট বেসেন্ট
স্কট বেসেন্ট
 
ওয়াশিংটন ডিসি

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের অন্তত অর্ধেক প্রত্যাহার করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে নয়াদিল্লি।
 
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, রুশ তেলের আমদানি কমানোর ভারতের সিদ্ধান্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অন্তত ২৫ শতাংশ শুল্ক শিথিল করার পথ খুলতে পারে।
 
যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দুই ধাপে আরোপ করেছিল। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল কথিত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার অভিযোগে। বাকি ২৫ শতাংশ শুল্ক ছিল দণ্ডমূলক পদক্ষেপ, যা আরোপ করা হয়েছিল রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখার প্রতিক্রিয়ায়, যখন ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছিল।
 
বেসেন্ট বলেন, “ভারতের ওপর আমাদের ২৫ শতাংশ শুল্ক একটি বড় সাফল্য। ভারতের রুশ তেল কেনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। শুল্ক এখনও বহাল আছে, তবে এখন তা তুলে নেওয়ার একটি পথ তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
 
গত সপ্তাহে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে ফক্স নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট আরও দাবি করেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
 
তিনি বলেন, “সংঘাত শুরুর পর ভারত রুশ তেল কিনতে শুরু করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, এরপর ভারত ধীরে ধীরে কেনা কমিয়ে দিয়েছে এবং রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছে।”
 
বেসেন্টের এই মন্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতের প্রতি কড়া বাণিজ্য নীতিতে সম্ভাব্য পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলেছে, যাতে উভয় দেশের জন্য লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো যায় এবং গত বছরের আগস্টে ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল তা প্রশমিত করা যায়।
 
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ভারতের কিছু বেসরকারি সংস্থা রুশ তেল আমদানি কমিয়েছে। তবে ভারত সরকার দাবি করেছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
 
মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতসহ একাধিক দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ভারত এই চাপ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান “অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য”, এবং ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।
 
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো যখন মস্কোর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন ছাড়মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে আসে ভারত, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ।