আন্দামান সাগরে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি, নিখোঁজ প্রায় ২৫০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি, উদ্ধার অভিযান জারি
নয়া দিল্লি
আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ফলে শিশু-সহ প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের সন্ধানে বর্তমানে আন্দামান সাগরে উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক উচ্চায়ুক্ত (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সময় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক উচ্চায়ুক্ত এক বিবৃতিতে জানায়, “দক্ষিণ বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া নৌকাটি প্রবল ঝড় ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ডুবে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।” বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বহনকারী নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রায় ২৫০ জন পুরুষ, মহিলা ও শিশু নিখোঁজ হওয়ায় ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উন্নত জীবনের সন্ধানে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য টেকনাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর দমন-পীড়ন ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে অস্থায়ী নৌকায় করে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা করে।
নৌকাটিতে থাকা অনেকেই বাংলাদেশের কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির থেকে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত কঠিন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে। রাখাইন রাজ্যেও তীব্র সংঘর্ষ চলছে, কারণ অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সামরিক বাহিনী ও জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি ভিত্তিতে আহ্বান জানাচ্ছি যে তারা বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখুক এবং বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করুক। বাংলাদেশ যখন নববর্ষ উদযাপন করছে, তখন এই ট্র্যাজেডি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলোর সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরে।”