কলকাতাঃ
মঙ্গলের মাটিতে নতুন চমক বিজ্ঞানীদের। নাসার পারসিভারেন্স রোভারের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে জেজ়েরো ক্রেটারের তিনটি পাথরে ক্রোমিয়ামযুক্ত করান্ডাম নামের বিরল খনিজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। মঙ্গলে এই ধরনের খনিজের সন্ধান এই প্রথম।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলে পৌঁছনো পারসিভারেন্স রোভার বর্তমানে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার প্রশস্ত জেজ়েরো ক্রেটারে গবেষণা চালাচ্ছে। রোভারের সুপারক্যাম যন্ত্রের লেজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনটি প্ল্যাজিওক্লেজ-সমৃদ্ধ শিলায় করান্ডামের স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায়।
চুনি-নীলকান্তমণির সঙ্গে সম্পর্ক কী?
পৃথিবীতে চুনি ও নীলকান্তমণি তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হল করান্ডাম। আবার করান্ডামের মধ্যে ক্রোমিয়াম থাকলে তা চুনির লালচে বা গোলাপি রং তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে মঙ্গলে এই খনিজের সন্ধান শুধু ‘রত্নের’ সম্ভাবনার জন্য নয়, গ্রহটির প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, করান্ডাম সাধারণত অ্যালুমিনিয়ামসমৃদ্ধ ও সিলিকন-স্বল্প পরিবেশে উচ্চ তাপমাত্রার ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মঙ্গলে এমন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল। তাই জেজ়েরো ক্রেটারে এই খনিজের উপস্থিতি গবেষকদের নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
কীভাবে তৈরি হয়েছিল?
গবেষকেরা মনে করছেন, কোটি কোটি বছর আগে জেজ়েরো ক্রেটার তৈরির সময় কোনও বিশাল মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতেই করান্ডাম তৈরির উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
আরেকটি সম্ভাবনা হিসেবে গবেষকেরা উত্তপ্ত তরলের সঙ্গে ম্যাগমা বা শিলার রাসায়নিক মিথস্ক্রিয়াকেও বিবেচনা করছেন।
তবে মঙ্গলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চুনি বা নীলকান্তমণি পাওয়া গেছে—এমন নয়। এখনও পর্যন্ত মাত্র তিনটি পাথরখণ্ডে ক্রোমিয়ামযুক্ত করান্ডামের সংকেত মিলেছে।
গবেষণাটি জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে মঙ্গলের এই শিলার নমুনা পৃথিবীতে এনে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হলে, করান্ডাম তৈরির রহস্য এবং মঙ্গলের প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।